Last Updated:
স্কুল শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের মিড-ডে মিল পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পরিষেবা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবার রাজ্যের সমস্ত জেলায় ধাপে ধাপে স্কুলের পড়ুয়াদের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পেতে চলেছে অন্নামৃত ফাউন্ডেশন। প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ বা পিএম পোষণ প্রকল্পের অধীনে এই সংস্থাকে কাজ করার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। শনিবার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। কয়েক মাস আগেই দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলীর একাধিক স্কুলে অনামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মিড ডে মিল দেওয়ার কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার আনুষ্ঠানিক সূচনাও করেছিলেন। ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। আজ, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জেলাগুলিকে তার নির্দেশিকা পাঠানো হলো।
মূলত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য মিড-ডে মিল প্রকল্প চালু রয়েছে। বর্তমানে পিএম পোষণ প্রকল্পের অধীনে এই পরিষেবা দেওয়া হয়। স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবার সেই খাবার সরবরাহের ব্যবস্থায় নতুন পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলায় ধাপে ধাপে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিষেবা চালু করা হবে। এর জন্য বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় রান্নাঘর বা সেন্ট্রাল কিচেন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই রান্নাঘর থেকেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। কোন জেলায় কতগুলি স্কুল রয়েছে, সেই স্কুলগুলিতে কতজন পড়ুয়া রয়েছে এবং স্কুলগুলির অবস্থান কোথায়, সেই সংক্রান্ত তথ্য অন্নামৃত ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রান্নাঘর তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। অন্নামৃত ফাউন্ডেশন যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়েও প্রশাসনিক সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে।
তবে এখনই সমস্ত জেলায় একসঙ্গে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে এই কাজ শুরু হবে। অন্নামৃত ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত হলে পরবর্তী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র বা লেটার অফ অ্যাকসেপ্ট্যান্স (LOA) দেওয়া হতে পারে।

রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের খাবার তৈরি ও সরবরাহের ব্যবস্থা এতদিন বিভিন্ন স্তরে পরিচালিত হয়ে এসেছে। এবার কেন্দ্রীয় রান্নাঘরভিত্তিক পরিষেবার দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই নতুন ব্যবস্থায় বর্তমানে মিড-ডে মিলের কাজে যুক্ত কর্মীদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে নির্দেশিকায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

