Headlines

Bargabhima Temple: রাজবাড়ির নৈবেদ্য ও পাঁঠা না পৌঁছলে শুরু হয় না আরাধনা! জানুন দেবী বর্গভীমার পুজোয় নৈবেদ্য দেওয়ার নিয়ম | Kali Puja traditions at the historic Bargabhima Temple, where royal family offerings Naibedya beginning of rituals | পূর্ব মেদিনীপুর


Last Updated:

Bargabhima Temple: ৫১ পীঠের অন্যতম পুণ্যভূমি তমলুক! রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে কালীপুজোর দিন তমলুক রাজবাড়ি থেকে নৈবেদ্য ও বলির পাঁঠা আসার পরই শুরু হয় দেবী বর্গভীমা মায়ের মূল পুজো। জেনে নিন পুজোর নানা নিয়ম।

+

বর্গভীমা

বর্গভীমা মন্দিরে কালী পুজোর দিনে আজও মেনে চলা হয় প্রাচীন নিয়ম

সৈকত শী, তমলুক: কালীপুজোর দিন নিয়ম মেনে রাজবাড়ির নৈবেদ্য এসে পৌঁছয় দেবী বর্গভীমা মায়ের মন্দিরে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে কালী ক্ষেত্র বলা চলে। বিশেষ করে তমলুক শহরকে। কারণ এই শহরের অধিষ্ঠাত্রীদেবী বর্গভীমা। সারা বছরই ভীমা কালী রূপেই পূজিত হন। এই মন্দির তমলুক রাজ পরিবার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালীপুজোয় শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে দেবী বর্গভীমা মায়ের পুজোয় প্রাচীন রীতি আজও সমান নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে পালন করে আসছেন মন্দিরের সেবায়েত। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, বদলেছে সমাজজীবনের নানা দিক। কিন্তু ঐতিহ্যের শিকড়ে জড়িয়ে থাকা এই ধর্মীয় আচার আজও অটুট।

রাজবাড়ির সঙ্গে দেবী বর্গভীমার পুজোর এই নিবিড় সম্পর্ক। কালীপুজোর সকালে পুজোর নৈবেদ্য ও বলির পাঁঠা আসে তমলুক রাজবাড়ি থেকে। প্রাচীনকাল থেকেই রাজবাড়ির নৈবেদ্য দেবীর পুজোর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচলিত রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেই নৈবেদ্য মন্দিরে এসে পৌঁছনোর পরই শুরু হয় পুজোর মূল পর্ব। এই রীতি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা বহন করে চলেছেন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের বিশ্বাস, এই ঐতিহ্য বজায় রাখার মধ্য দিয়েই দেবী বর্গভীমা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ পায়। তাই কালীপুজোর দিন রাজবাড়ির নৈবেদ্য আসার মুহূর্তটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

আরও পড়ুন: মা কালীর পাতে ইলিশ-চিংড়ি, বিশেষ পদ ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ! ২৫০ বছর পেরিয়েও অটুট নিয়ম

৫১ পীঠের এক পেট দেবী বর্গভীমা মায়ের মন্দির। দেবী বর্গভীমা মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন জনশ্রুতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস। বছরের বিভিন্ন সময়ে ভক্তদের সমাগম হলেও কালীপুজোর দিন বিশেষ রূপে পূজিতা হন দেবী বর্গভীমা। আর কালীপুজোর দিন রাজবাড়ির নৈবেদ্যকে কেন্দ্র করে মন্দিরের পুজোয় যেন মিশে যায় রাজপরম্পরা ও লোকাচারের এক ঐতিহাসিক সেতুবন্ধন। এই প্রথা স্থানীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় বহন করে। মন্দিরের পুজোকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে থাকে গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা। এ বিষয়ে রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্য দীপেন্দ্র নারায়ণ রায় বলেন, ” বর্তমানে রাজতন্ত্র নেই কিন্তু প্রাচীন রীতি পরিবারের তরফ থেকে আমি মেনে আসছি। মায়ের পুজোর নৈবেদ্য ও বলির জন্য পাঁঠা দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুন: হাওড়া ব্রিজ থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, কলকাতার আইকনিক ল্যান্ডমার্কের নেপথ্যে ‘এই’ বাঙালি প্রতিভা

মন্দির কমিটির সম্পাদক শিবাজী অধিকারী জানিয়েছেন, “দেবী বর্গভীমা সহ তমলুক শহরের যত প্রাচীন মন্দির সবই রাজবাড়ীর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল এবং প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কালীপুজোর দিন রাজবাড়ী থেকে পুজোর নৈবেদ্য ও বলির জন্য পাঁঠা আসে। আমরা রাজবাড়ির এই নৈবেদ্য সাদরে গ্রহণ করি।” আধুনিকতার ছোঁয়ায় বহু প্রাচীন রীতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু দেবী বর্গভীমা মায়ের পুজোয় রাজবাড়ির নৈবেদ্য আসার এই প্রথা এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালীপুজোর দিন এই আচার যেন মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, তা বর্তমানেরও জীবন্ত অংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *