হারিয়ে যাওয়া দেশীয় বীজ ফিরিয়ে আনতে সুন্দরবনে উদ্যোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরছে ‘বীজ-প্রচার টোটো’ |


Last Updated: Nov 07, 2026, 22:36 IST

বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: হারিয়ে যাওয়া দেশীয় বীজ ফিরিয়ে আনতে সুন্দরবনে উদ্যোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরছে ‘বীজ-প্রচার টোটো’। কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে উন্নত ও দেশীয় বীজের উপর। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বীজকে নতুন করে চেনা, কৃষকদের হাতে সেই বীজ তুলে দেওয়া এবং তা থেকে উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করাই হতে পারে কৃষির অন্যতম মূলমন্ত্র। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করেছে ডি.আর.সি.এস.সি (DRCSC)। CROPS 4 HD Project-এর সহযোগিতায় সুসজ্জিত টোটোর মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে এবং স্থানীয় হাটে হাটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রে। বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার ধরন, বাড়ছে চাষের ঝুঁকি এবং উৎপাদন খরচ। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় বীজ কৃষির ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু আধুনিক চাষাবাদের নানা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কারণে বহু প্রাচীন দেশীয় বীজের ব্যবহার কমে গিয়েছে। অনেক বীজ আজ কার্যত কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে বিলুপ্তির পথে। সেই বীজের গুণাগুণ সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই প্রচার অভিযানের বিশেষ আকর্ষণ সুসজ্জিত ‘বীজ-প্রচার টোটো’। গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার ও হাটে ঘুরে বেড়াবে এই টোটো। মাইকিং, প্রচার এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে তুলে ধরা হবে দেশীয় বীজের গুরুত্ব। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার দেশীয় বীজ কেনার সুযোগও থাকছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের কাছে সহজেই পৌঁছে যাবে ঐতিহ্যবাহী বীজ। উদ্যোক্তাদের মতে, দেশীয় বীজের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ, প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগ ও পোকার বিরুদ্ধে সহনশীলতার বৈশিষ্ট্য। অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচে চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাই কৃষকদের শুধু বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করাই নয়, নিজেদের জমিতে উৎপাদিত দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী মরশুমে তা ব্যবহারের বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে। শুধু কৃষক নয়, সাধারণ মানুষকেও এই প্রচার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ দেশীয় বীজের সংরক্ষণ মানে শুধু কৃষির একটি পুরনো পদ্ধতিকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা। কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় বীজ বিক্রেতাদের কাছেও এই বীজ সহজলভ্য করে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় বীজকে আবারও কৃষকদের জমিতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই DRCSC এবং CROPS 4 HD Project-এর এই উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পাশাপাশি বীজের বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের গুরুত্বকে সামনে রেখে সুন্দরবনের গ্রামীণ কৃষিতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করবে এই ‘বীজ-প্রচার টোটো’ অভিযান, এমনটাই আশা উদ্যোক্তাদের।বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: হারিয়ে যাওয়া দেশীয় বীজ ফিরিয়ে আনতে সুন্দরবনে উদ্যোগ, গ্রামে গ্রামে ঘুরছে ‘বীজ-প্রচার টোটো’। কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে উন্নত ও দেশীয় বীজের উপর। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বীজকে নতুন করে চেনা, কৃষকদের হাতে সেই বীজ তুলে দেওয়া এবং তা থেকে উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করাই হতে পারে কৃষির অন্যতম মূলমন্ত্র। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করেছে ডি.আর.সি.এস.সি (DRCSC)।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *