Last Updated:
Bardhaman Medical College: ইন্টার্নদের বক্তব্য, ছুটি প্রায় নেই বললেই চলে। অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সময় এক জনের পরিবর্তে অন্য জন ডিউটি করেন। তবে এই পরিস্থিতিতে ডিউটি বদলের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, কখনও কখনও অর্থের বিনিময়েও ডিউটি বদল করা হয়।
পূর্ব বর্ধমান: রোস্টার এড়িয়ে এক জনের বদলে অন্য জনের ডিউটি করা। কখনও আবার অর্থের বিনিময়েও ডিউটি বদলের অভিযোগ। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও এই প্রবণতা রয়েছে বলে অভিযোগ। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতাকেই এর জন্য দায়ী করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তবে এই ব্যবস্থা যে কোনওভাবেই কাম্য নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আসার পর এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সারা বছরই রোগীর চাপ থাকে। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। এমনকি বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও বহু রোগী আসেন এই হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে শয্যাসংখ্যা প্রায় ১,৩০০। বহির্বিভাগেও রোগীর ভিড় থাকে। সেখানে সিনিয়র চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ২০০। জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ৫০০। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরও ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি।
ইন্টার্নদের বক্তব্য, ছুটি প্রায় নেই বললেই চলে। অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সময় এক জনের পরিবর্তে অন্য জন ডিউটি করেন। তবে এই পরিস্থিতিতে ডিউটি বদলের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, কখনও কখনও অর্থের বিনিময়েও ডিউটি বদল করা হয়। এই প্রবণতায় রাশ টানতে উদ্যোগী হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল সব্যসাচী দাস বলেন, “এখানেও কিছু বিচ্যুতির ব্যাপারে আমরা অবগত হয়েছি। সেই কারণে আগামী ২ তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সব বিভাগের প্রধানদের থাকতে বলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ইন্টার্নদের সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। এই নিয়মের অন্যথা হলে তার দায় নিতে হবে ইউনিট ইনচার্জ অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে। পাশাপাশি, বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্সের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর ফলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রিন্সিপাল আরও বলেন, আগের সরকারের আমলে এই ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। বর্তমানে অনেক কিছুই বদল হচ্ছে। এবার এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলেই আশা করছেন তিনি।

