সিঙ্গুরে নতুন করে তৈরি হয়েছে শিল্পায়নের সম্ভাবনা৷ এই কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার বুদ্ধ জমানার শিল্পনীতির সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এই প্রসঙ্গে আরএসপি নেতা সুভাষ নস্করকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বুদ্ধবাবুর সময়ে যখন সিঙ্গুরের কাজকর্ম নিয়ে তুমুল উত্তেজনা এবং সংঘাত হয়েছিল, তখন কিন্তু এই শুভেন্দুবাবুরা বিরুদ্ধেই ছিলেন৷ ’’
এরপরেই বিমান বসুর মন্তব্য প্রসঙ্গে সুভাষ নস্করের বক্তব্য, ‘‘জানি না ওটা সমালোচনা বলবে কি না৷ জ্যোতি বাবু তো স্বয়ং ঈশ্বর বা ভগবান নন৷ কর্মস্থলে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের হোঁচট লাগে, যাঁরা কাজ করে না, তাঁদের লাগে না৷ জ্যোতিবাবু কাজ করতে চেয়েছিলেন, তাতে যে একেবারে নিশ্ছিদ্র সব কিছু হবে, তা নয়, হতেই পারে৷ বিমানবাবু সজ্ঞানী মানুষ৷ সবটাই তাঁর গোচরে ছিল৷’’
তিনি বলেন, ‘‘বুদ্ধবাবুর নীতি ঠিক ছিল৷ কিন্তু, তখনও আমাদের প্রশ্ন ছিল, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম, দ্বি ফসলি, ত্রিফসলি জমিকে বাদ দেওয়া হোক৷ বুদ্ধবাবুর ডাকা মঞ্চে ক্ষিতি গোস্বামী প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন৷ ফলে তখন সিপিএমের লোকেরা ক্ষিতি গোস্বামীকে ক্ষতি গোস্বামী বলে অপপ্রচার করেছিলেন৷’’
শিল্পনীতি প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন, শিল্পনীতি নিয়ে ভুল যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় জ্যোতি বসুর৷ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তা কার্যকর করেছিলেন৷
সিপিআই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বামফ্রন্টের আমলে সিদ্ধান্ত ছিল, জমি দিতে গেলে, জমির মালিক যাঁরা, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে, তাঁদের সহমতের ভিত্তিতে জমি নিতে হবে৷ যেটা বুদ্ধবাবু করেননি৷ তিনি সেটা পরে স্বীকার করেছেন, বলেছেন আমাদের এটা ভুল হয়েছে৷ আমাদের কাছে ভুল ইনফরমেশন ছিল৷’’
তাহলে কি বামফ্রন্টের নীতি ‘লঙ্ঘন’ করে জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন বুদ্ধবাবু? স্বপন বাবুর অবশ্য তেমনটাই দাবি৷ তিনি বলেন, ‘‘কারও ভুল কারও হয়না বুদ্ধবাবুর সময় যে ভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তা বামফ্রন্টের নীতি ছিল না৷ বামফ্রন্টের নীতি লঙ্ঘন করে দ্বিফসলি, তিনফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল৷ পরে বুদ্ধবাবু তা স্বীকারও করেন যে, তাঁর কাছে ভুল ইনফরমেশন ছিল৷’’
বিমান বসু বিতর্কে মুখ খুলেছেন বর্তমানে বাংলার একমাত্র বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও৷ তাঁর মতে, ‘‘বামফ্রন্ট যে শিল্প নীতি গ্রহণ করেছিল, তাই প্রয়োগ করেছিলেন জ্যোতি বসু৷ তারপরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও আমাদের দল এবং বামফ্রন্টের শিল্পনীতি অনুযায়ী তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন৷ আজকে যাঁরা বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরাই বুদ্ধদেবের সমালোচনা করেছিলেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের পুরভাগে ছিলেন আদকের মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী৷ যার ফলে বিমান দার কথা নিয়ে এত বিতর্ক করে লাভ নেই৷’’
