Last Updated:
ইদুঁরের গর্ত থেকে মাটি তুলে সেই মাটির উপরে বোধনের সময় ঘট স্হাপন করা হয়। ঘটের উপর দেওয়া হয় পাঁচ রকমের কলাই।
অব্রাহ্মণ পরিবারে সারা বছর একই আসনে পূজা পান কালী ও দুর্গা। এখানে দুর্গা পুজো হয় ১৫ দিন ধরে। মহালয়ার সাতদিন আগে বোধনের মধ্য দিয়ে পুজোর সূচনা হয়। চতুর্থীতে মা পুজো পেলেন শাকম্বরী রূপে। এ দিন সাত শাকের ভোগ দেওয়া হয় মাকে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ঘোঘাতলার মাজি পরিবারের পুজোয় বংশ পরম্পরায় এই রীতি চলে আসছে।
কাঁকসার গড়জঙ্গলে রয়েছে বহু প্রাচীন শ্যামারূপার মন্দির। প্রাচীন কাল থেকেই জঙ্গলের মাঝে এই মন্দিরে বহু ভক্তের সমাগম হয়। মানত করেন অনেকে। বহু ছাগ বলি হয়। তবে সবার আগে হয় চাল কুমড়ো বলি। বংশ পরম্পরায় সেই চাল কুমড়ো আসত আউশগ্রামের ঘোঘাতলা গ্রামের মাজিবাড়ি থেকে।
আগে সেই চাল কুমড়ো বলির পর অন্য সব বলি হবে এমনটাই চলে আসছিল। কথিত আছে, তেমনই এক মহানবমীতে মাজি পরিবারের সদস্য সুধীর মাজি চাল কুমড়ো নিয়ে চলেছেন শ্যামারূপা মন্দিরের উদ্দেশে। ঘন জঙ্গলে পথ হারান তিনি। এ দিকে সময় যায় যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর সুধীরবাবু পৌঁছন মন্দির। তিনি দেখেন, স্হানীয়ভাবে চাল কুমড়ো জোগাড় করে বলি শুরু হয়ে গিয়েছে মন্দিরে। অপমানে তিনি মন্দির থেকে একটি পাথর কুরিয়ে নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন। বাড়ি ফিরে সেই নবমীতেই পাথরকে দেবী শ্যামারূপা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তার সামনে ফেরত নিয়ে আসা সেই চালকুমড়ো বলি দেন। সেই থেকেই ঘোঘাতলা গ্রামে শ্যামারূপার পুজো শুরু। পরবর্তী সময়ে এখানে মূর্তি পুজো শুরু হয়।
একই ঘরে এক সঙ্গে পুজো পান দুর্গা ও কালী। মা সিদ্ধেশ্বরী রূপে পূজিত হন মা কালী। মা দুর্গা এখানে সিংহবাহিনী। মা দুর্গার এখানে সিংহের উপরে অধিষ্ঠান। মহিষ ও মহিষাসুর থাকলেও এখানে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী নেই। বুধবার চতুর্থীতে শাকম্বরী পুজোয় শুসনি, কলমি, লাল খাঁড়া, লাউ, কুমড়ো, পালং, পুনকো- এই সাত শাকের ভোগ দেবীকে নিবেদন করা হল।

