Last Updated:
Inspirational Story: সোনা-রুপোর দোকান ছেড়ে স্ত্রীর সঙ্গ! কীভাবে নিজের ভাগ্য ফেরালেন বর্ধমানের দম্পতি? জানুন অনুপ্রেরণার অনন্য কাহিনি। ব্যবসায় বড়সড় লোকসানের পর যখন চারদিক অন্ধকার, ঠিক তখনই কাটোয়ার পানুহাটের গৃহবধূ লক্ষ্মী পাল নিজের অদম্য জেদ আর অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে হাতে তুলে নিয়েছিলেন কাদামাটি।
কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: লক্ষ্মীপুজোর আগে মাটির লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পী লক্ষ্মী পাল। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার পানুহাটের বসন্তপল্লীর বাসিন্দা তিনি। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূ লক্ষ্মী কোনও শিল্প বিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নেননি। নিজের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই গড়ে তুলেছেন মৃৎশিল্পের জগৎ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। সংসারের আর্থিক হাল ফেরানোর তাগিদে শুরু করা এই কাজই আজ তাঁর উপার্জনের অন্যতম ভরসা। তাঁর হাতের তৈরি প্রতিমা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
লক্ষ্মী পাল বলেন, অনেক পরিশ্রম করেছি, “১৭ বছর হল এই কাজ করছি। এখন সবাই এসে বলেন লক্ষ্মী পালের বাড়ি যাব ঠাকুর কিনতে, এইসব শুনে আমারও ভাল লাগে।” নিজের বাড়িতেই ছোট্ট কর্মশালা গড়ে তুলেছেন লক্ষ্মী পাল। সেখানে ছাঁচে মাটি দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিমা শুকানো, রং করা, চোখ আঁকা এবং সাজিয়ে তোলা, প্রতিটি কাজই যত্নের সঙ্গে নিজের হাতে করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুজোকে সামনে রেখে তাঁর কর্মশালায় কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। হাজার হাজার প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি লক্ষ্মীর সঙ্গে সরস্বতী, গণেশ, বিশ্বকর্মা-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিও তৈরি করেন তিনি। পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে খুচরো বিক্রেতা, বিভিন্ন স্তরের ক্রেতাদের কাছে তাঁর তৈরি প্রতিমার চাহিদা রয়েছে। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিনরাজ্যেও পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর শিল্পকর্ম। গতবছর তাঁর তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমা পাড়ি দিয়েছিল জার্মানিতেও। লক্ষ্মী দেবীর স্বামী ভোলানাথ পাল বলেন, “আমি আগে সোনারুপার দোকানে কাজ করতাম। লোকসানের পরে এই কাজ শুরু করি। স্ত্রীর সহযোগিতার পর থেকেই উন্নতি হয়েছে, হাল ফিরেছে সংসারের।”
একসময় সোনা-রুপোর দোকানে কাজ করতেন ভোলানাথ পাল। বর্তমানে স্ত্রীর প্রতিমা তৈরির কাজেই সহযোগিতা করেন তিনি। দু’জনে মিলে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে তৈরি করেন অসংখ্য প্রতিমা। অভাবের সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে যে কাজ শুরু করেছিলেন লক্ষ্মী, আজ তা-ই তাঁদের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন আশার আলো। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের দক্ষতা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের জোরে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। কাটোয়ার লক্ষ্মী পালের এই লড়াই শুধু এক শিল্পীর সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং নিজের হাতে কাজ শিখে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
