Last Updated:
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজারে মিলছে হাতে আঁকা লক্ষ্মীর সরা। বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের কারুকাজ, শিল্পীদের পরিশ্রম এবং সরার দাম নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
পূর্ব বর্ধমান, শরদিন্দু ঘোষ: রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো আর ঠিক তার আগেই দেখা গেল হারিয়ে যেতে বসা হাতে আঁকা লক্ষ্মীর সরার দেখা মিলল বর্ধমানে। কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটে এই লক্ষ্মীর সরার দেখা মিলল। সেই সরার দাম কত জানেন?
বাংলায় দেবী লক্ষ্মী মূলত শস্যদেবী বা ধান্যলক্ষ্মী হিসেবে পূজিতা হন। মাটির সরা সরাসরি মাটি, উর্বরতা ও প্রকৃতির প্রতীক। মূলতঃ পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা বাসিন্দাদের মধ্যেই মাটির সরায় মা লক্ষ্মীর আরাধনার চল বেশি। ইতিহাসবিদদের মতে,পূর্ববঙ্গের ঢাকা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ এবং শরিয়তপুর অঞ্চলে মূলত এই লক্ষ্মীর সরার প্রচলন শুরু হয়েছিল। দেশভাগের সময় পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষজনের হাত ধরে এটি পশ্চিমবঙ্গের নানা পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে।
একসময় অনেক পরিবারেই তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। ফলে বড় আকারের প্রতিমার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন ছিল।অথচ পারিবারিক প্রথা মেনে কোজাগরী পূর্ণিমায় মা লক্ষ্মীর পুজো করা চাই। তাই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মাটির সরা সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন আর্থিক স্বচ্ছলতা এলেও অনেকে পারিবারিক পূর্ব প্রথা মেনে সরাতেই মা লক্ষ্মীর পুজো করেন।
বিক্রেতারা জানালেন, বর্ধমানে এই সরা এসেছে সোদপুর থেকে। নদিয়ার তাহেরপুর, নবদ্বীপ এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অঞ্চলের পালপাড়ার শিল্পীরা বংশপরম্পরায় এই লক্ষ্মীর সরা তৈরির ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। সরার ওপর শুধু যে মা লক্ষ্মী আছেন তা নয়, কিছু সরার ওপরের অংশে শিব, মাঝখানে সপরিবার দুর্গা এবং নিচের অংশে দেবী লক্ষ্মী আছেন। আবার লাল রঙের জমিনের ওপর ওপরের অংশে সপরিবার সশস্ত্র দুর্গা এবং নিচের অংশে লক্ষ্মী আছেন। কোনও কোনও সরায়
দুটি ভাগ রয়েছে। ওপরের অংশে দুর্গা, লক্ষ্মী-নারায়ণ বা রাধা-কৃষ্ণ এবং নিচের অংশে দেবী লক্ষ্মী আছেন। কিন্তু এই সব সরার দাম কত? ফল বা সবজির যা দাম সে তুলনায় এই সরার দাম খুব বেশি নয়। একশো থেকে একশো কুড়ি টাকার মধ্যেই এক একটি সরা মিলছে।

