Last Updated:
Laxmi Puja 2026: মৃৎশিল্পীদের অনেকেই বছরের এই পুজোর মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁদের কথায়, নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে তিন-চার মাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি।
বর্ধমান: কোজাগরী পূর্ণিমায় মা লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাঙালি। বিজয়া দশমীর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে ধনদেবীর পুজোর তোড়জোড়। আর সেই উপলক্ষেই বর্ধমান শহরে বসেছে লক্ষ্মী প্রতিমার মেলা। শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটের পাশের কোর্ট কম্পাউন্ড চত্বরে বিক্রি হচ্ছে শয়ে শয়ে লক্ষ্মী প্রতিমা। প্রতিমার চাহিদা ও বিক্রি ভালো থাকায় খুশি মৃৎশিল্পীরা।
বর্ধমানের এই প্রতিমার মেলায় পাওয়া যাচ্ছে কৃষ্ণনগরের মাটির লক্ষ্মী প্রতিমা। সুন্দর রূপের পাশাপাশি আকর্ষণীয় সাজসজ্জাও নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। ফলে কৃষ্ণনগরের প্রতিমার প্রতি আগ্রহ বেশি। তবে সেগুলির দাম তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি প্রতিমাও বিক্রি হচ্ছে ভালোই। ক্রেতাদের কথায়, এখানে বিভিন্ন বাজেটের প্রতিমা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিমা কিনতে ভিড় করছেন শহরবাসী।
প্রতিমার চাহিদা বেশি থাকায় খুশি বিক্রেতারাও। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর চলও বাড়ছে। অনেকেই ছোট প্রতিমা কিনে বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আরাধনার আয়োজন করছেন। সেই কারণেই প্রতিমার চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, এ বছর প্রতিমার দাম তুলনামূলক বেশি। মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, মাটি আনা থেকে শুরু করে রং ও সাজসজ্জার সামগ্রী—সব কিছুরই দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহণ খরচ। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর থেকে প্রতিমা নিয়ে আসতে অনেক টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি, প্রতিমা বিক্রির কাজে যুক্ত কর্মীদের পারিশ্রমিকও দিতে হয়। সব মিলিয়ে বেড়েছে প্রতিমার খরচ। মৃৎশিল্পীদের অনেকেই বছরের এই পুজোর মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁদের কথায়, নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে তিন-চার মাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। অনেকের পক্ষে বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। সেই কারণে তাঁরা বিশ্বকর্মা, গণেশ, লক্ষ্মী, কালী, কার্তিক ও সরস্বতীর প্রতিমা তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেন।
বছরের এই সময়ে প্রতিমা বিক্রি করে যে উপার্জন হয়, তা দিয়েই অনেক মৃৎশিল্পীর সারা বছরের সংসার চলে। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে বর্ধমানের এই প্রতিমার মেলা শুধু ক্রেতাদের পুজোর প্রস্তুতির কেন্দ্র নয়, বহু মৃৎশিল্পীর জীবিকা নির্বাহেরও গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

