Last Updated:
Diwali Clay Lamp: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মাটির প্রদীপের ভাল অর্ডার পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও দীপাবলির আসল পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে জগদ্দলের গোলঘর বাঁশমোড় কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। মাটির জোগান ঘাটতি, দ্বিগুণ পরিবহণ খরচ এবং আধুনিক চিনা আলোর দাপটের মাঝে কয়েক প্রজন্মের পুরনো এই ঐতিহ্য ও শতাধিক পরিবারের রুজি-রুটি বাঁচাতে চলছে তীব্র লড়াই।
উত্তর ২৪ পরগনা: আধুনিকতার ঝলমলে আলোর ভিড়েও আজও হারিয়ে যায়নি মাটির প্রদীপের ঐতিহ্য। কালীপুজো ও দীপাবলিতে ঘর আলোকিত করতে মাটির প্রদীপের কদর এখনও রয়েছে। আর সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই বছরের পর বছর ধরে মাটির প্রদীপ-সহ নানা সামগ্রী তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন জগদ্দলের গোলঘর বাঁশমোড় কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। একদিকে মাটির জোগানে ক্রমশ ঘাটতি, অন্যদিকে কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় আগামীতে এই শিল্প ধরে রাখা নিয়েই সংশয় তৈরি হচ্ছে। পুরনো মাটি থাকায়, এবছর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ব্যাপক হারে মাটির প্রদীপ বিক্রি হওয়ায় কিছুটা হলেও যেন স্বস্তি মিলেছে। তবে কালীপুজো বা দীপাবলিতে কেমন বিক্রি হবে এখন সেই আশাতেই তাকিয়ে রাতদিন এক করে চলছে কাজ। জগদ্দল, গোলঘর কুমোরপাড়া এলাকার প্রায় ১০০টি বাড়ির মানুষ এই মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সারা বছর ধরেই তাঁরা তৈরি করেন মাটির চায়ের ভাঁড়, দইয়ের ভাঁড়, ছোটখাটো মাটির সামগ্রী এবং প্রদীপ। তবে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় দীপাবলির মরশুমের দিকেই তাকিয়ে থাকেন তাঁরা। এই সময় প্রদীপের চাহিদা বাড়ায় কিছুটা বাড়তি আয়ের আশায় বুক বাঁধেন এই এলাকার মৃৎশিল্পীরা।
মৃৎশিল্পী রামবিচার পণ্ডিতের কথায়, মাটির জোগান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে। আগে ডায়মন্ড হারবার থেকে মাটি আসত। কিন্তু নির্বাচনের সময় প্রায় দু’মাস মাটি আসা বন্ধ ছিল। বর্তমানে মাটি পাওয়া গেলেও দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, মৃৎশিল্পী সুবোধ কুণ্ডু জানান, তাঁদের পরিবার প্রায় ৬০-৭০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। আগে তুলনামূলক কম দামে মাটি পাওয়া গেলেও বর্তমানে সেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মাটির জোগান নিয়ে সমস্যার কারণে প্রায় তিন মাস তাঁদের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
শুধু মাটির দাম নয়, মাটি পরিবহণের ক্ষেত্রেও সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন শিল্পীরা। ফলে সারাদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে পরিশ্রম করেও উপযুক্ত লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। মৃৎশিল্পী বিজেন্দর পণ্ডিত জানান, আগে যেখানে মাটি আনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হত, বর্তমানে সেখানে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার টাকা। মাটির পাশাপাশি কয়লার দামও বেড়েছে। অথচ সেই অনুপাতে বাড়েনি ভাঁড় ও প্রদীপের বিক্রির দাম। তাঁর কথায়, টুনি লাইট, মোমবাতি এবং চিনা আলোর দাপটে আগের তুলনায় মাটির প্রদীপের চাহিদা কিছুটা কমেছে। যদিও কালীপুজোর সময় এখনও ভাল চাহিদা রয়েছে বলে জানান।
মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ তৈরির অর্ডার পাওয়ায় সেই সময় কিছুটা ভাল ব্যবসা হয়েছিল। কিন্তু সারা বছরের বাজার পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তাঁদের দাবি, সরকার যদি মাটির জোগান স্বাভাবিক করার পাশাপাশি তাদের কথা একটু ভাবেন তাহলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এই মৃৎশিল্পীদের পরিবার গুলিতে। শিল্পীদের আর্জি, মাটির প্রদীপ শুধু একটি সামগ্রী নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। তাই আধুনিক আলোর পাশাপাশি দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর অভ্যাস বজায় রাখারও আবেদন জানাচ্ছেন তারা। তাতেই বাঁচবে কয়েক প্রজন্মের পুরনো এই শিল্প, পাশাপাশি রক্ষা পাবে শতাধিক পরিবারের রুজি-রুটিও।
