Headlines

Life Success Story: ৫০ টাকা ‘স্যালারিতে’ চাকরি শুরু…! আজ ২০ জনকে দিয়েছেন ‘কাজ’, অভাব থামাতে পারেনি ‘স্বপ্নউড়ান’ while once asking for job from others now giving salary of 20 people know this successful man who touches his dream with will power | লেটেস্ট ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর


Last Updated:

Life Success Story: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার রিপন দেবনাথ একসময় ৫০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করে আজ ২০ জনকে কর্মসংস্থান দিয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর্থিক অনটনে পড়াশোনা ছাড়লেও শেখার ইচ্ছে ও পরিশ্রমে তিনি নিজের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।

+

কাটোয়ার

কাটোয়ার রিপন দেবনাথ

কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: একসময় মাত্র ৫০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন। কখনও ইমিটেশনের দোকানে, কখনও কম্পিউটার সেন্টারে বেয়ারার কাজ, আবার কখনও সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব। পরে ফ্লেক্সের দোকানে মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতে করতে শিখেছিলেন গ্রাফিক্সের কাজ।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের সেই রিপন দেবনাথই আজ নিজের ব্যবসা দাঁড় করিয়ে শুধু নিজে স্বাবলম্বী হননি, তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও প্রায় ২০ জন। একসময় যাঁকে কাজ খুঁজতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটতে হয়েছে, আজ তাঁর হাত ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন একাধিক তরুণ-তরুণী।

রিপণ দেবনাথ বলেন, “সব সময় ভাবতাম যে কাজটা করছি সেটাকে কী ভাবে আরও ভালো করা যায়। লক্ষ্য স্থির রেখে ধাপে ধাপে এগিয়েছি সেই কারণেই আজ আমি এই জায়গায়।”রিপনের এই পথ অবশ্য একেবারেই মসৃণ ছিল না। উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে। ছোট থেকেই কম্পিউটার শেখার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু টাকা দিয়ে কম্পিউটার শেখার সামর্থ্য ছিল না।

তাই কম্পিউটার শেখার সুযোগ তৈরি করতে একটি কম্পিউটার সেন্টারে বেয়ারার কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে চা-জল দেওয়া থেকে শুরু করে নানা কাজ করতেন, আর সেই কাজের ফাঁকেই ধীরে ধীরে কম্পিউটার শেখার সুযোগ পান। পরে ফ্লেক্সের দোকানে তিন বছর কাজ করে গ্রাফিক্সের কাজ শেখেন। দাদারা কলকাতায় গেঞ্জির কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই গেঞ্জির উপর নিজের ডিজাইন তৈরি করে ব্যবসা শুরু করার ভাবনা আসে।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচ জোগাড় করতে না পেরে নিজেই কিস্তিতে কম্পিউটার কিনে ওয়েবসাইট তৈরি শেখেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় তাঁর টি-শার্টের ব্র্যান্ড। বর্তমানে তাঁর তৈরি পোশাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছনোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও যাচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পডকাস্ট। আর তাঁর পডকাস্টের বিশেষ দিক হল, মফস্বল ও গ্রামের প্রতিভাবান মানুষদের নিজেদের কথা বলার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া।

রিপন দেবনাথ আরও বলেন, “আমি আগে কাজ করে যে টাকা বেতন পেতাম এখন আমার কাছে কাজ করে এরকম বেশ কয়েকজন তার কয়েকগুণ বেতন পায়।”তবে নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্ব একা নিতে চান না রিপন। তাঁর কথায়, পরিবার এবং দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী তাঁর স্ত্রী বরাবরই তাঁকে পাশে থেকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন। নিজের শখ-আহ্লাদ এবং অনেক ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে পিছনে রেখে তাঁর স্ত্রী এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁকে সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা টিমের প্রত্যেক সদস্যের অবদানও তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে।

এমনও সময় গিয়েছে, যখন কর্মীদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না, তখন তাঁদের শিখিয়েছেন, পাশে রেখেছেন। সেই টিমের অনেকেই আজও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ২০ জনের টিম নিয়ে কাজ করছেন তিনি।সম্প্রতি ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে কলকাতাতেও অফিস নিয়েছেন। শূন্য থেকে শুরু করে আজ অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা রিপন দেবনাথের এই যাত্রা যেন মনে করিয়ে দেয়, শুরুটা যত কঠিনই হোক, শেখার ইচ্ছে, পরিশ্রম, লক্ষ্য আর পাশে থাকা মানুষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চললে নিজের পথ তৈরি করা সম্ভব।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *