Last Updated:
Money Making Tips: চায়না ফুলের দিন শেষ! পুজো ও উৎসবে বাজিমাত করছে আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব ‘কোরিয়ান ফুলের মালা’। কালনার বাড়ুইপাড়ায় হাজারো মহিলা পেয়েছেন রোজগারের নয়া দিশা। এই মালা পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ও খুচরো বাজারে।
কালনা, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: শোলার মালা, জরির মালা কিংবা রেশমের মালা, সময় বদলের সঙ্গে বদলেছে ফুলের মালা তৈরির ধরনও। বাজারে একের পর এক নতুন ধরনের মালার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন কোরিয়ান ফুলের মালা। দেখতে আকর্ষণীয়, বাহারি রং এবং পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি এই ফুলের মালা নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। একসময় বাজারে চায়না ফুলের মালার বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সেই কাজ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার জায়গায় জনপ্রিয়তা বাড়ছে কোরিয়ান ফুলের।
আর এই নতুন ধরনের ফুল দিয়ে মালা তৈরির কাজেই এখন ব্যস্ত কালনার বাড়ুইপাড়ার কারিগররা। এখান থেকে তৈরি মালা পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাজারে। মালা প্রস্তুতকারক তথা ব্যবসায়ী সুব্রত পাল বলেন, “কোরিয়ান বলে একটা ফুল এসেছে, কোরিয়ানের থেকে, সেই ফুলের কাজটা আমাদের খুব চলছে। ফুল দেখতে ভালো, রং ভাল এবং পরিবেশ বান্ধব, যার জন্য এই কাগজের প্রতি মানুষের খুব চাহিদা বেড়েছে এবং এই মাল আমরা বানাচ্ছিও খুব। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে, এত দাম বেড়েছে ভাষা নেই, কিন্তু মানুষের রুচিও বদলেছে।
মালের দাম বেড়েছে তাতে কোনও অসুবিধা নেই, কম দামের মাল আর বিক্রি হচ্ছে না। ভাল মালা নিতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে একদম।” বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের কাজেও নতুনত্ব এনেছেন সুব্রত পাল। তাঁর কথায়, বর্তমানে ক্রেতাদের রুচি অনেকটাই বদলেছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও কম দামের মালার তুলনায় উন্নত মানের মালার প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশি। সেই কারণেই কোরিয়ান ফুলের মালার চাহিদা বাড়ছে।
এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় হাজার থেকে বারোশো মহিলা। তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ফুলের মালা। একদিকে যেমন নতুন কোরিয়ান ফুলের মালাকে ঘিরে বাড়ছে ব্যবসার পরিধি, তেমনই এই কাজের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা পাচ্ছেন রোজগারের সুযোগ। পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুনত্বের মেলবন্ধন ঘটিয়েই এগিয়ে চলেছে কালনার এই মালা তৈরির কাজ।
