প্রকাশের এই সাহসী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথমদিকে আমিও ভয় পেতাম। যখন গৌরী লঙ্কেশের খবর জানতে পারলাম আমি ভেঙে পড়েছিলাম। প্রকাশও ভেঙে পড়েছিল।”
প্রকাশের এই হঠকারী স্বভাব অনেক সময় তাঁকে ভয় পাইয়ে দিত বলে জানিয়েছেন পনি। তিনি আরও জানান, গৌরীও প্রকাশের মতো স্পষ্টবাদী স্বভাব নিয়ে একইভাবে চিন্তিত ছিলেন। পনি বলেন, “প্রকাশ সব সময় গৌরীকে নিজের মনের কথা বলত। কিন্তু গৌরী মারা যাওয়ার পর ওর মধ্যে যেন একটা বড় পরিবর্তন আসে।”
পনি জানান, প্রকাশ যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আমরা আর কত দিন ভয়ের মধ্যে বাঁচব?”, তখন ধীরে ধীরে তাঁর ভয় কেটে যায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি, প্রকাশ অত্যন্ত নির্ভীক একজন মানুষ। তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে একাধিকবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তাঁর বিশ্বাস থাকলে, ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই মতামত প্রকাশ করেন।”
তবে প্রকাশের স্পষ্টবাদী স্বভাবের প্রভাব পড়েছে চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। পনি জানান, ইন্ডাস্ট্রির সবাই প্রকাশের মতামতের সঙ্গে একমত নন, আর তিনি তাঁদের কাছ থেকে তা প্রত্যাশাও করেন না। তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধু রয়েছেন, যাঁরা প্রকাশের বন্ধু নন। আমি কাউকে ওকে পছন্দ করতে বাধ্য করি না। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে।”
স্বামীর সাহসিকতার প্রশংসা করে পনি আরও জানান, অনেকেই প্রকাশের অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সাহসের জন্যও তাঁকে ভালোবাসেন। পনির কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে ওকে বলেন, অভিনেতা হিসেবে আমরা আপনাকে ভালোবাসি। পাশাপাশি নিজের অবস্থানে যেভাবে অনড় থাকেন, সেটাও আমাদের ভালো লাগে।”
অন্য অভিনেতাদেরও একহাত নিলেন পনি বর্মা?

সিজেপির সঙ্গে প্রকাশ রাজ
পনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ্যে জানাতে সতর্ক থাকেন। অভিনেতারা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করলে কাজ হারানোর ভয় পান কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পনি বলেন, “সব ক্ষেত্রে তা নয়।” তাঁর ব্যাখ্যা, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁদের পরিস্থিতি অন্যদের থেকে আলাদা। তবে রাজনৈতিক মতামতের কারণে প্রকাশকে পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন পনি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য প্রকাশ একাধিক ছবির কাজ এবং বিজ্ঞাপনের সুযোগ হারিয়েছেন। এমনকী, অগ্রিম টাকা দেওয়ার পরেও বেশ কয়েকটি ছবির নির্মাতারা পিছিয়ে গিয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বামীর অবস্থান ব্যাখ্যা করে পনি বলেন, প্রকাশের উদ্বেগের মূল বিষয় হল সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা—স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা। তাঁর কথায়, “ও শুধু চায় ভালো হাসপাতাল ও স্কুল তৈরি হোক। কিন্তু আমাদের দেশে অন্য দশটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, আর স্কুল ও শিক্ষার বিষয়টি পিছনে পড়ে থাকে। দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তব। আমি ওর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি না।”
