Last Updated:
Dragon Fruit: সাংবাদিকতার গণ্ডি ছেড়ে চাষের ময়দানে নতুন স্বপ্ন! গোবরডাঙার যুবক ধৃতাংশু ও উত্তরার ড্রাগন ফল চাষে বাজিমাত। সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহারে অফ সিজনেও মিলছে বাম্পার ফলন, স্বনির্ভরতার নতুন পথ দেখাচ্ছেন এই দুই তরুণ-তরুণী।
উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: চেনা পেশার গণ্ডি ছেড়ে এবার চাষের ময়দানে নতুন স্বপ্নের খোঁজে গোবরডাঙার যুবক ধৃতাংশু দাঁ ও তার সঙ্গী উত্তরা সরদার। চাকরির অনিশ্চয়তা এবং গতানুগতিক পেশার বাইরে বেরিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে শুরু করেছিলেন ড্রাগন ফলের চাষ। আর সেই উদ্যোগেই এখন নজর কাড়ছেন তাঁরা। প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগান। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্য যুবক-যুবতীদের কাছেও হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণা। ধৃতাংশু ও তাঁর সঙ্গী উত্তরার তৈরি এই বাগানের বয়স প্রায় আড়াই বছর। এখানে মূলত তিন ধরনের ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে।
জাম্বু রেড, মরোক্কান এবং সিয়াম রেড। একসময় অন্যের ড্রাগন ফলের বাগান দেখে নিজেদেরও এমন একটি বাগান তৈরির স্বপ্ন দেখতেন তাঁরা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই বছর দুয়েক আগে শুরু হয় প্ল্যান্টেশন। প্রাথমিকভাবে এই চাষে বিনিয়োগ কিছুটা বেশি। জমিতে পিলার তৈরি, চারা কেনা এবং প্ল্যান্টেশনের জন্য প্রয়োজন হয় মোটা অঙ্কের খরচ। তবে সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে এই চাষ যথেষ্ট লাভজনক হতে পারে বলেই দাবি তাঁদের। ড্রাগন ফলের চাষে আরও একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তাঁরা।
সাধারণত নির্দিষ্ট মরসুমেই এই ফলের ফুল ও ফলন বেশি হয়। তবে মরসুমের বাইরেও ফলন পাওয়ার লক্ষ্যে বাগানে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। এই আলো ব্যবহারের মাধ্যমে দিনের দৈর্ঘ্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে অফ সিজনেও গাছে ফুল আসা এবং ফলন পাওয়া সম্ভব। ইতিমধ্যেই বাগানে নতুন করে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সেই ফুলই তাঁদের পরীক্ষামূলক উদ্যোগের সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। আগামী দিনেও মরসুমের বাইরে একাধিকবার ফুল ও ফল পাওয়ার আশা করছেন দুই যুবক।
বর্তমানে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতার কারণে বহু যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে ধৃতাংশুর বার্তা, নিজের জমি থাকলে কিংবা জমি লিজ নিয়ে আধুনিক ও বিকল্প কৃষিকাজে এগিয়ে আসা যেতে পারে। শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে কৃষিকাজকেও স্বনির্ভরতার নতুন রাস্তা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ উত্তরারও। সাংবাদিকতার জগৎ থেকে কৃষিক্ষেত্রে এসে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিকল্পনা থাকলে চেনা পেশার বাইরেও তৈরি করা যায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
