Last Updated:
Viral Tea Shop: গোলাপ-জবার ভেষজ চা আর ভেন্ট্রিলোকুইজমের জাদুতে কথা বলা পুতুল ‘আপদ’! পশ্চিম মেদিনীপুরের অভিজিৎ মাইতির তাক লাগানো চায়ের দোকানের গল্প জানুন।
বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ধোঁয়া ওঠা মাটির ভাঁড়ে শুধু চা নয়, মিলছে গোলাপ, জবা কিংবা অপরাজিতার পুষ্টিগুণ। আর সেই কাপে চুমুক দিতে দিতেই হঠাৎ পাশ থেকে খোনা গলায় কেউ ডেকে উঠছে— ‘কী গো, চা কেমন হয়েছে?’ চমকে তাকিয়ে ক্রেতারা দেখছেন, কথা বলছে রক্তমাংসের কোনও মানুষ নয়, এক কাঠের পুতুল! নাম তার ‘আপদ’। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এক চায়ের দোকানে এখন এমনই অভিনব দৃশ্য। দোকানের কর্ণধার অভিজিৎ মাইতি একদিকে যেমন ভেষজ উপাদানে বদলে দিয়েছেন গতানুগতিক চা পানের অভ্যাস, তেমনই ওষ্ঠ না নেড়ে পুতুলের মুখে কথা ফুটিয়ে— অর্থাৎ ভেন্ট্রিলোকুইজমের জাদুতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা এলাকাকে।
করোনা মহামারীর আগে মোবাইল মেরামতির কাজ করতেন অভিজিৎ। লকডাউনের ধাক্কায় জীবিকা হারিয়ে নিজের বাড়িতেই শুরু করেন চায়ের দোকান— ‘চায়ের আড্ডা’। তবে শুধু দুধ-চিনির চেনা ছকে নিজেকে আটকে রাখেননি। শুরু করেন নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। দোকানে ঝুলিয়ে রেখেছেন পেল্লায় মাপের ফ্লেক্স, যেখানে সহজ ভাষায় লেখা কোন ফুলের চায়ের কী স্বাস্থ্যগুণ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে হজমের উন্নতি— উপকারিতা পড়ে জবা বা গাঁদা ফুলের সুবাসিত চায়ের বরাত দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতারা। দুধ-লেবু চায়ের একঘেয়েমি ভেঙে এই বাহারি চা বেলদাবাসীর কাছে এখন দারুণ জনপ্রিয়।
তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। চায়ের আড্ডায় বাড়তি আকর্ষণ অভিজিতের ‘কথা বলা পুতুল’। ছোটবেলা থেকে নয়, লকডাউনে সামাজিক মাধ্যমে বিদেশি শিল্পীদের ভিডিও দেখেই এই স্বরক্ষেপণ বা ভেন্ট্রিলোকুইজম শিল্পের প্রতি তাঁর কৌতূহল জন্মায়। কোনও প্রথাগত তালিম ছাড়াই অনলাইনে কৌশল শিখে ও কলকাতার এক পরিচিতের পরামর্শে আয়ত্ত করেন এই বিদ্যা। অর্ডার দিয়ে আনিয়ে নেন পুতুল, যার নাম দেন ‘আপদ’। চা বানানোর ফাঁকে কিংবা অবসরে চলে তাঁর কঠিন অনুশীলন। এখন চায়ের আড্ডার ভিড় সামলানোর পাশাপাশি মঞ্চেও ডাক পাচ্ছেন স্বশিক্ষিত এই শিল্পী।
