Last Updated:
ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে আনুপগড়-সুরতগড় রেলপথে বিস্ফোরণ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইনের দু’টি কংক্রিটের স্তম্ভ ও কয়েকটি স্লিপার। বিস্ফোরণের জেরে বন্ধ ট্রেন চলাচল, নাশকতার আশঙ্কা খতিয়ে দেখছে ATS ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
রাজস্থান: ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলায় রেললাইনে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনুপগড়-সুরতগড় রেলপথ। ঘটনার পরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেললাইন উড়িয়ে দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করার কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, আনুপগড়-সুরতগড় রেলপথের ৫০ জিবি এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে রেললাইনকে ধরে রাখা দু’টি কংক্রিটের স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, রেললাইনের কয়েকটি স্লিপারও ভেঙে গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকেও তার শব্দ শোনা যায়। রেললাইনের নীচে প্রায় দু’ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিস্ফোরণের প্রায় ৪৫ মিনিট আগেই ওই রেলপথ দিয়ে আনুপগড় থেকে সুরতগড়গামী একটি ট্রেন যাতায়াত করেছিল। রাত ৯টা নাগাদ ট্রেনটি ওই এলাকা পেরিয়ে যায়। তার পরেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), ডগ স্কোয়াড, নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিক এবং রেল কর্তৃপক্ষ। রাত ২টো নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দল। বিস্ফোরণের পর আনুপগড়-সুরতগড় রুটে সকাল ৯টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রীগঙ্গানগরের পুলিশ সুপার হরিশঙ্কর জানিয়েছেন, ৫০ জিবি গ্রামের কাছে রেললাইনকে ধরে রাখা দু’টি সিমেন্টের স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-র দল ডাকা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রতি যে ৭.৫ কেজি আরডিএক্স উদ্ধার হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তদন্ত চলছে।
রামসিংহপুর থানার অধীন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। রেললাইনকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

