Last Updated:
আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কাঁচা পাটের প্রকৃত মজুতের চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। আর ১৫ নভেম্বরের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হতে পারে পাটচাষি, পাটকল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পরবর্তী পথ।
কলকাতা: উৎপাদন কমানোর অজুহাতে পাটকলগুলিতে আচমকা শিফট কমানো বা শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার পাটকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে এই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। পাশাপাশি, রেকর্ড পরিমাণ পাট উৎপাদনের বছরে কাঁচা পাটের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কারা মজুতদারি করছে, তা খতিয়ে দেখতে শ্রম দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সরকারি অর্ডার কমে যাওয়ায় একাধিক পাটকল দিনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার একটি শিফটে কাজ চালাচ্ছে। এর ফলে ঘণ্টার ভিত্তিতে মজুরি পাওয়া শ্রমিকদের আয় কমছে। একই সঙ্গে কমছে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও রাজ্য বিমা প্রকল্পে তাঁদের জমা। সূত্রের খবর, বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অর্ডার কমলেও তার দায় শ্রমিকদের উপর চাপানো চলবে না। পাটকলগুলিকে স্বাভাবিক শিফটে কাজ ফেরানোর নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি সরবরাহের ক্ষেত্রে আমদানি করা সুতো ও পাটের বস্তা ব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশের আওতায় দেওয়া অর্ডারের উদ্দেশ্য রাজ্যের পাটকল ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বজায় রাখা। তাই ওই সরবরাহে বিদেশি পণ্য ব্যবহার করা যাবে না। অন্য দিকে, পাটকল কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্ডার কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমানো ছাড়া উপায় নেই। শিফটের সময় নির্ধারণে সব পাটকলের জন্য অভিন্ন লিখিত নির্দেশিকা চেয়েছে শিল্পমহল। পাশাপাশি, কেন্দ্রের কাছ থেকে সংশোধিত সরবরাহ পরিকল্পনা ও মাসিক ইন্ডেন্ট দ্রুত প্রকাশের জন্য রাজ্যের সাহায্য চেয়েছে তারা।
সূত্রের খবর বৈঠকে কাঁচা পাটের মজুতদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শ্রমমন্ত্রী। জুট সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মরশুমে পাটের উৎপাদন হতে পারে ৯২ লক্ষ বেল, যা গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। অথচ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে টিডি-৫ শ্রেণির কাঁচা পাটের দাম প্রতি কুইন্টালে ১৪,২০০ টাকা। যেখানে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫,৯২৫ টাকা। কাঁচা পাটের অভাবে গত জুনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একাধিক পাটকল। ১ জুলাই মরশুমের শুরুতে পাটকলগুলির গুদামে মজুত ছিল মাত্র ১.১৪ লক্ষ বেল, যা রেকর্ড পরিমাণ কম। এখনও পর্যন্ত বাজারে এসেছে প্রায় ৩০ লক্ষ বেল পাট। বাকি পাটের বড় অংশ রয়েছে চাষিদের হাতে অথবা মধ্যস্বত্বভোগীদের মুকামে। এই পরিস্থিতিতে নিবন্ধিত পাট ব্যবসায়ীদের তালিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শ্রম দফতর।
পাশাপাশি, জুট বেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দফতরে গিয়ে কারা কত পরিমাণ কাঁচা পাট কোথায় মজুত করে রেখেছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হবে। সূত্রের খবর, পাটকলগুলিতে কাঁচামালের অভাব থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের হাতে পাট আটকে থাকার বিষয়টি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ৫ নভেম্বর জুট কমিশনারের ডাকে জুট সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানে শ্রম দফতরও উপস্থিত থাকবে। পাটের মজুত ও সরবরাহ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে জুট কমিশনারের দফতরকে সাহায্য করবে তারা।
পাটের দাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা
সূত্রের খবর, কাঁচা পাটের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রতি কুইন্টালে ১১,৬০০ টাকা নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছেন জুট কমিশনার। আগামী ১৫ নভেম্বর জুট অ্যাডভাইজরি গ্রুপের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। শিল্পমহলের বক্তব্য, নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দিলে বাজারে জল্পনা কমতে পারে। কিন্তু তাতে মজুত পাট বাজারে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ২০২১-২২ মরশুমে প্রতি কুইন্টালে ৬,৫০০ টাকা দামের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হলেও বাজারদর তার চেয়ে বেশি হয়েছিল। পাটের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য প্রতিটি স্তরে মজুতের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মজুত যাচাই এবং পাটকল ও ব্যবসায়ীদের তথ্য আদানপ্রদানের উপর জোর দিয়েছে শিল্পমহল। পাশাপাশি, জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বাফার স্টক তৈরির জন্য গুদাম ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

