Last Updated:
Dating App: ডেটিং অ্যাপের নামে প্রতারণার অভিযোগ, যাদবপুরে পুলিশের হানা! গ্রেফতার ৩১
কলকাতা: ডেটিং অ্যাপের নামে প্রতারণার অভিযোগ, যাদবপুরে পুলিশের হানা! গ্রেফতার ৩১
ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে বড়সড় অভিযান কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার। যাদবপুর থানা এলাকার তিনটি পৃথক জায়গায় একযোগে অভিযান চালান সাইবার ক্রাইম শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগ, ওই তিনটি জায়গায় বেআইনিভাবে কল সেন্টার চালানো হচ্ছিল। সেখান থেকেই বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে প্রতারণার কারবার চলত বলে অভিযোগ।
পুলিশের অভিযানে মোট ৫৫টি মোবাইল ফোন, একাধিক সিম কার্ড, তিনটি ল্যাপটপ এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ২৪ জন মহিলা এবং ৭ জন পুরুষ রয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে এই চক্রের দুই মূল অভিযুক্তও। অভিযোগ, তারাই বেআইনি কল সেন্টারগুলি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করত। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল এবং প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যারা ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে অপরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করার অনিশ্চয়তা সবসময়ই এই অভিজ্ঞতার একটি অংশ। তবে ইদানীং প্রশ্নটি কেবল এটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই যে, দুজনের মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ (কেমিস্ট্রি) গড়ে উঠবে কি না। বরং এখন প্রশ্ন ওঠে—ওই ব্যক্তি, আমন্ত্রণ এবং এমনকি সাক্ষাতের স্থানটি আদৌ আসল কি না।
ভারতে ডেটিং ও রোমান্স স্ক্যামের পরিধি এখন ভুয়া প্রোফাইল ও ক্যাটফিশিং থেকে শুরু করে ক্যাফের বিল বাড়িয়ে দেখানো, আর্থিক কারসাজি, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পরিসংখ্যানই ব্যাখ্যা করে কেন ব্যবহারকারীরা আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন।
২০২৬ সালের ম্যাকফি (McAfee)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, জরিপভুক্ত ৭৫ শতাংশ ভারতীয় ডেটিং অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভুয়া প্রোফাইল বা ছবি পেয়েছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি বলে মনে হয়েছে; ৪৬ শতাংশ মানুষ বুঝতে পেরেছেন যে তারা কোনো বট বা ভুয়া প্রোফাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন জানিয়েছেন যে, অনলাইন ডেটিং বা প্রেমের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তারা অর্থ হারিয়েছেন—এক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ২.৮ লাখ রুপি খোয়ানোর কথা জানা গেছে।

