Last Updated:
Indranil Sen Update: সব মিলিয়ে আর্থিক লেনদেন, পর্যটন দফতরের নথি এবং UNESCO-র সঙ্গে কথিত চুক্তির বিষয়গুলি সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।
কলকাতা: মাস আর্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল লালবাজার। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে পাঁচ সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছিল। পরে আরও চারজন সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে SIT-এর সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯।
অন্যদিকে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এদিন তদন্তকারীদের মুখোমুখি হননি ইন্দ্রনীল সেনের কন্যা। আগামিকাল হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই অনুযায়ী আগামিকাল দুপুর ২টোয় তাঁকে হাজিরার সময় দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী-সহ মোট ৮ থেকে ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সংস্থার কয়েকজন কর্মীকেও।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। সেই জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনের বক্তব্যে বেশ কিছু মতপার্থক্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। যদিও সেই মতপার্থক্যের বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্য পর্যটন দফতরের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন গোয়েন্দারা। ইন্দ্রনীল সেন যতদিন পর্যটন দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়কালের বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং দফতরের কাজকর্ম সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, সেই টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
শুধু টিকিট বিক্রি নয়, রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতরের ফান্ড ভুয়ো বা শেল কোম্পানির অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে মাস আর্ট দূর্নীতিতে।
আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি নামে একটি সংস্থা তৈরি করে এবং UNESCOর সঙ্গে একটি ভুয়ো চুক্তিপত্র দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়েছে ইন্দ্রনীল সেন অন্যান্য অভিযুক্তরা। সঙ্গে কর্পোরেট ফি যাতে দিতে না হয় তার জন্য অবৈধ উপায়ে টিকিট বিক্রির টাকা ও রাজ্য পর্যটন দফতরের ফান্ড ভুয়ো বা শেল কোম্পানীর একাউন্টে ট্রান্সফার করে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও অন্যান্য অভিযুক্তরা।
এছাড়াও UNESCO-র সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে লালবাজার। সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য জানতে চেয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। মাস আর্ট সোসাইটির সঙ্গে UNESCO-র চুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

