Last Updated:
Nandan News: নবান্নে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল রবিবার। নীল, সাদা, কালো রং বদলে এবার অনুষ্ঠানের লোগোতেও লেগেছে গেরুয়ার ছোঁয়া। ঠিক সেদিনই মমতার নাম ফলক রঙে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে নন্দনে৷ শহুরে বাঙালির কৃষ্টির প্রাণকেন্দ্র নন্দন, রবীন্দ্র সদন৷ সেই নন্দন থেকে এবার সরল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক৷ এ বিষয়ে এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান৷
নন্দন-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ১৯৮০ সালে৷ ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর৷ তার বছর পাঁচেক পরে উদ্বোধন হয় নন্দন চত্বরের৷ ১৯৮৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয় বঙ্গ সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রের৷
২০১১ সালে বাম বিদায়ের পরে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার৷ তারপরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও বেশ কিছু ফলক বিভিন্ন সময়ে লাগানো হয় নন্দন চত্বরে৷
রাজ্যে ফের হয়েছে পালাবদল৷ ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের শাসনের পরে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি৷ এবারও নন্দনে এল উল্লেখযোগ্য ‘পরিবর্তন’৷ রঙের পোচ পড়ল মমতার নামাঙ্কিত ফলকে৷ তবে জানা গিয়েছে, অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক।
এবিষয়ে খড়্গপুরের চা চক্র চলাকালীন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘পরিবর্তন যখন হয়েছে তখন সবকিছুই পরিবর্তন হওয়া উচিত। যা চলছে, তা সিনেমা জগতে হোক বা অন্যত্র হোক তা ঠিক নয়৷ এবার সব কিছুর পরিবর্তন হবে।’’
কী বলেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী?
রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “এখন আর কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দেখতে চান?” মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরীও পালটা জবাব দেন। তাঁর দাবি, “এখন স্বৈরাচারী সরকার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গত ১৫ বছরের রাজ্যে কী কী হয়েছে।”
১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহর। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। নন্দনে ২-আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। সাংবাদিক সম্মেলনে লোগো উন্মোচন করেন মিঠুন চক্রবর্তী। ৩২-তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো ডিজাইন করেছেন সন্দীপ রায়।

