Last Updated:
Durga Puja 2026: কালনার সিদ্ধেশ্বরী মোড়ের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় রয়েছে একাধিক অভিনব রীতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দশমীর বিদায়পর্বে নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মী যাতে চলে না যান, সেই বিশ্বাসে দুর্গামন্দিরের মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়ার প্রথা পালন করা হয়।
কালনা, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: দুর্গাপুজোর দশমী মানেই মাকে বিদায় জানানোর পালা। কিন্তু কালনা শহরের সিদ্ধেশ্বরী মোড়ের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে সেই বিদায়পর্বেই রয়েছে এক অভিনব রীতি। নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মী যাতে চলে না যান, সেই বিশ্বাসে দুর্গামন্দিরের মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবারের মহিলারা ধরে রাখেন লক্ষ্মীকে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই বিশ্বাস ও রীতিই এই বাড়ির দুর্গাপুজোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো বর্তমান দুর্গামন্দিরের পুজো হলেও এই পারিবারিক আরাধনার ইতিহাস আরও প্রাচীন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, তাঁদের আদি বাস ছিল নদিয়ার বড়বেলুনে। মহামারীর কারণে সেখানকার বসত ছেড়ে কালনায় চলে আসেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে প্রথমে পটে দুর্গাপুজো শুরু হয়। পরে প্রতিমা তৈরি করে পুজোর প্রচলন হয়। আজও প্রতিমার কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে রং ও সাজসজ্জার কাজ পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের হাতে করেন।
এই বাড়ির পুজোয় ব্যতিক্রমের শুরু বোধন থেকেই। দেবীর ঘট সুতো দিয়ে ঘিরে রাখার প্রচলিত রীতি নেই এখানে। বোধনের সময় নারায়ণশিলার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠা করা হয় চাঁদেশ্বর শিবকে। নবপত্রিকার স্নানও হয় পুজোদালানে। পরিবারের প্রবীণ সদস্য অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, পারিবারিক নিষ্ঠা ও উদ্যোগেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজোর ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবারের সদস্য পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সপ্তমীতে নারায়ণশিলাকে নারায়ণমন্দির থেকে দুর্গামন্দিরে নিয়ে আসা হয়। দশমীতে তাঁকে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয় নিজের মন্দিরে। সেই সময় পরিবারের মহিলারা লক্ষ্মীকে ধরে রাখেন। নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মী যাতে চলে না যান, সেই বিশ্বাস থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় দুর্গামন্দিরের মূল দরজা। সময় বদলেছে, বদলেছে পুজোর আয়োজনের নানা দিক। কিন্তু কালনার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে আজও অটুট রয়েছে পারিবারিক বিশ্বাস, নিজস্ব রীতি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য।

