Last Updated:
৩০৯ বছরের শারদোৎসবে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে ‘নারীশক্তি’র নেতৃত্ব। ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে পরিবারের মহিলাদের এই উদ্যোগ বন্তিরের দত্তবাড়ির দুর্গাপুজোয় এনেছে নতুন উদ্যম ও নতুন পরিচিতি।
পূর্ব বর্ধমান: তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য, বনেদিয়ানা আর সাবেকি আচার-অনুষ্ঠান। তারই সঙ্গে এ বার যুক্ত হয়েছে নারীশক্তির উদ্যম। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বন্তির গ্রামের দত্তবাড়ির দুর্গাপুজো এ বছর ৩০৯ বছরে পা দিল। প্রাচীন রীতিনীতি অক্ষুণ্ণ রেখেই পুজোর আয়োজন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন পরিবারের কন্যা ও পুত্রবধূরা। তাঁদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা মহিলা পুজো কমিটি ‘নারীশক্তি’ এখন দত্তবাড়ির শারদোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
দত্তবাড়ির সদস্যদের কথায়, দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের এক সময়ের প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের এই দুর্গাপুজোর সূচনা প্রায় ৩০৯ বছর আগে। পরিবারের পূর্বপুরুষ প্রয়াত ব্যোমকালী দত্ত এই পুজো শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকে আজও নিষ্ঠা ও পরম্পরা মেনেই চলে আসছে দেবী আরাধনা।দত্তবাড়ির দুর্গাপ্রতিমাতেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। ডাকের সাজে সজ্জিত একচালার কাঠামোয় দেবী দুর্গার সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী ও সরস্বতী। অন্যদিকে, কার্তিক ও গণেশ থাকেন মায়ের দু’পাশে আলাদা করে। প্রতিমার অস্ত্রশস্ত্র সম্পূর্ণ পিতলের তৈরি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক রীতি মেনেই আজও সম্পন্ন হয় পুজোর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান।
এত দিন পুজোর আয়োজন ও পরিচালনার মূল দায়িত্ব সামলাতেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। তবে গত দু’বছর ধরে পুজোর প্রস্তুতিতে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়েছে। গত বছর থেকে পরিবারের কন্যা ও পুত্রবধূরা পুজো পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেন। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে ওঠে ‘নারীশক্তি’ মহিলা পুজো কমিটি। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতা নিয়েই মহিলারা পুজোর আয়োজন ও পরিচালনা করছেন। তাঁদের হাতে দায়িত্ব আসার পর থেকে পুজোর প্রস্তুতি ও পারিবারিক উৎসাহে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
চার দিনের দুর্গোৎসবে দেবী আরাধনার পাশাপাশি থাকছে গ্রামের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, নানা মজার প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ধুনুচি নাচ। ফলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে দত্তবাড়ির পুজো হয়ে উঠছে আনন্দ, সংস্কৃতি ও পারিবারিক মিলনমেলার বিশেষ উপলক্ষ।
কর্মসূত্রে পরিবারের বহু সদস্য এখন গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন শহরে প্রতিষ্ঠিত। কেউ কেউ আবার দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রয়েছেন। তবে শারদোৎসবের টানে তাঁরা বারবার ফিরে আসেন বন্তিরের পৈতৃক ভিটেয়। সময় ও সুযোগ পেলেই প্রবাসী সদস্যরা একত্রিত হন এই বাড়িতে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দুর্গাপুজোই পরিবারের সদস্যদের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি দত্তবাড়িতে নিয়মিত পালিত হয় দোল, চড়ক, গাজন, সরস্বতী পুজো ও রথযাত্রার মতো বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিনের সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ বারও প্রস্তুত পরিবার।

