Last Updated:
মানুষের হাড়গোড় ও মাথার খুলি দিয়ে তৈরি দেবীমূর্তি! মেদিনীপুরের মহাতাবপুরের উগ্র তারা মায়ের মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য, লোককথা ও তন্ত্রসাধনার কাহিনি। প্রতি ১২ বছর অন্তর হয় দেবীর নবকলেবর। ২০২৮ সালের মাঘ মাসে ফের সেই বিশেষ প্রথা পালিত হওয়ার কথা।
কলকাতাঃ রহস্যে মোড়া মেদিনীপুরের মহাতাবপুরের উগ্র তারা মায়ের মন্দির। মানুষের অস্থি দিয়ে তৈরি উগ্র তারা মায়ের মূর্তিকে ঘিরে যেন গা ছমছমে পরিবেশ মন্দির প্রাঙ্গণে। মেদিনীপুর শহরের মহাতাবপুরে অবস্থিত মা কালীর মন্দির। যা উগ্র তারা মায়ের মন্দির নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার সঠিক ইতিহাস আজও অজানা। তবে মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য, তন্ত্রসাধনা এবং অলৌকিক কাহিনি।
জনশ্রুতি, পরাধীন ভারতে এক অজ্ঞাত পরিচয় ভিনদেশি সাধুবাবার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই মন্দিরের পুজো। কথিত আছে, বক্সী বাজারের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে অপঘাতে মৃত এক তরুণীর হাড়গোড় ও মাথার খুলি দিয়ে তৈরি হয়েছিল দেবীর মূর্তি। এমনকী মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় নরবলির কাহিনিও প্রচলিত রয়েছে। যদিও এসব ঘটনার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলেনি।
মন্দিরের পাশেই রয়েছে পদ্মাবতী মহাশ্মশান। তাই শহরবাসীর কাছে এই মন্দির শ্মশান কালীর মন্দির হিসেবেই বিশেষ পরিচিত। মন্দিরের সেবাইতদের দাবি, দেবীর মূর্তি তৈরিতে খড়ের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় কুশ। প্রতি ১২ বছর অন্তর হয় দেবীর নবকলেবর। সেই প্রথা মেনেই ২০২৮ সালের মাঘ মাসের রটন্তী চতুর্দশীতে হবে পরবর্তী নবকলেবর। ওই সময় মায়ের মূর্তি বিসর্জন দিয়ে তুলে আনা হবে হাড়গোড়, মাথার খুলি। পরবর্তী সময়ে সেই হাড়গোড়, মাথার খুলিতে তুষ জড়িয়ে মাটি দিয়ে তৈরি করে মায়ের নতুন মূর্তি।
দেবীকে ঘিরে রয়েছে নানা অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথাও। রটন্তী চতুর্দশীতে বিশেষ পুজোর পাশাপাশি ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় কালীপুজো। আগে ছাগবলি দেওয়ার প্রচলন থাকলেও বর্তমানে লাউ ও চালকুমড়ো বলির মাধ্যমেই পুজো সম্পন্ন হয়। রহস্য, বিশ্বাস আর লোককথার মেলবন্ধনে আজও মেদিনীপুরবাসীর কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র মহাতাবপুরের উগ্র তারা মায়ের মন্দির।

