Last Updated:
আগে বর্ধমানের মহারাজা এই পুজোর ব্যয় বহন করতো। রাজবাড়ি থেকে আসতো পুজোর অর্ঘ্য। এখন পুজো করেন পরিবারের সদস্যরাই।
দিনে দিনে আর্থিক অবস্হা খারাপ হচ্ছিল জমিদারের। বাড়ির জয় দুর্গাকে তাই পুরোহিতের হাতে তুলে দিয়ে জমিদার চলে গেলেন অন্যত্র। দানে পাওয়া এই জয়দুর্গাকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করলেন সেই পুরোহি। চারশো বছর অতিক্রম করে আজও চলে আসছে সেই পুজো।
এই জয়দুর্গার সঙ্গে কার্তিক গণেশ থাকে না। তবে মেয়েরা থাকে মায়ের সঙ্গে। বিসর্জন হয় শুধু কলাবউয়ের। এ পুজোয় ঢাক বাজে না। চারশো বছর ধরে কালনার মুখোপাধ্যায় পরিবারে এভাবেই জয়দুর্গার পুজো হয়ে আসছে।মায়ের বিসর্জন নেই। তাই মহাদশমীর পুজো হয়না কালনার জয়দুর্গার। তার বদলে দশমীতে শুরু হয় নিত্য পুজো। চলে বছর ভর।
কালনা শহরের গঙ্গা তীরবর্তী এলাকা পাথুরিয়া মহল। সেখানেই মুখোপাধ্যায় পরিবারে চারশো বছর ধরে মাটির জয়দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। তারও আগে কালনার বালিবাজারে চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে এই জয়দুর্গার পুজো হতো।
তখন গঙ্গা তীরের বালিবাজার ছিল বাংলার অন্যতম বড় বাণিজ্য বন্দর। সেখানকার ব্যবসায়ী চট্টোপাধ্যায় পরিবার জয়দুর্গার পুজো শুরু করেন। সেই বাড়িতে নিত্যপুজো করতেন পাথুরিয়ামহলের মুখোপাধ্যায়রা। আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পূজারি রামধন মুখোপাধ্যায়কে জয়দুর্গা প্রতিমা দিয়ে কালনা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় চট্টোপাধ্যায় পরিবার। রামধন মুখোপাধ্যায় পাথুরিয়ামহলের এই বাড়িতে জয়দুর্গা প্রতিমা নিয়ে এসে পুজো শুরু করেন। নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ৯ পুরুষ ধরে সেই পুজো চলে আসছে।
এক চালার সাবেকি বাংলা প্রতিমা হয় জয়দুর্গার। বাঁশপাতার মতো টানা চোখ। আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হয় পাথরের মূর্তি। আসলে পোশাক থেকে গয়না সবই মাটির। বারো বছর অন্তর প্রতিমার অঙ্গরাগ হয়। মা দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী থাকলেও থাকে না কার্তিক, গণেশ। আগে ছাগ বলি হলেও ষাট বছর ধরে তা বন্ধ। বদলে আখ, চাল কুমড়ো, শশা বলি হয়। পুজোয় ঢাক সহ আধুনিক বাজনার ব্যবহার নিষিদ্ধ। দশমীতে শুধু কলা বউয়ের বিসর্জন হয়।

