Last Updated:
Tarapith: হাজার হাজার মানুষের অন্নসংস্থান! তারাপীঠের ভোগ বিতরণ ঘিরে অজানা তথ্য! অনেকেই জানেন না কী করে পাবেন এই প্রসাদ?
বীরভূম,সৌভিক রায়: লালমাটির বীরভূম জেলার বুক চিরে বয়ে চলা দ্বারকা নদীর তীরবর্তী সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ নাম শোনা মাত্রই ভক্তি ও বিশ্বাসের এক অদ্ভুত শিহরণ জাগে মনে। কালীর উগ্র রূপের প্রতীক মা তারা এখানে পুজিত হন ‘দয়াময়ী মা’ হিসেবে, যিনি তাঁর সন্তানতুল্য ভক্তদের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট হরণ করেন। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, রাজ্য-সীমানা পেরিয়ে ভিন রাজ্য থেকেও ছুটে আসেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। তবে তারাপীঠের এই অসামান্য ধর্মীয় আকর্ষণের পাশাপাশি এমন এক অনন্য মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক আয়োজন রয়েছে, যা জানলে মন জুড়িয়ে যায়। আর তা হল মা তারার দুপুরের পবিত্র ভোগ বা মহাপ্রসাদ গ্রহণ।
তারাপীঠ মন্দিরে এলে একটা প্রশ্ন প্রায়শই সাধারণ মানুষের মনে জাগে, এত বড় মন্দিরে দুপুরের ভোগ খেতে গেলে কত টাকা খরচ হয় বা কুপন কাটতে হয় কোথায়? কিন্তু জানলে অবাক হবেন, তারাপীঠ মন্দিরে মায়ের দুপুরের ভোগ গ্রহণ করতে গেলে একটিও পয়সার প্রয়োজন হয় না! এখানে আসা প্রতিটি ভক্তের জন্য মায়ের দুপুরের প্রসাদ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিবেশন করা হয়। জাত-পাত, ধনী-দরিদ্রের কোনও ভেদাভেদ নেই, মায়ের দরবারে সবাই সমান। আপনি মন্দিরে এসেছেন মানেই মা তারার অমূল্য মহাপ্রসাদ পাওয়ার অধিকার আপনারও রয়েছে।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান “তারাপীঠ মন্দিরে যেমন বিনামূল্যে ভোগ খাবার ব্যবস্থা থাকে ঠিক তেমনি সকাল ৯ টার মধ্যে মন্দিরে এসে ভোগ খাবার জন্য নাম লিখলে মাত্র ৭০-৮০ টাকায় ভোগ খেতে পারেন।” তারাপীঠ মন্দির চত্বরে বা তার সংলগ্ন নির্দিষ্ট ভোগ বিতরণ কেন্দ্রে (অন্নসত্র বা নির্দিষ্ট প্রাঙ্গণে) প্রতিদিন দুপুরে হাজার হাজার মানুষের জন্য এই সুস্বাদু ভোগ রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরের নির্দিষ্ট সময়ে ভক্তদের সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে বসিয়ে কিংবা নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় প্রসাদ দেওয়া হয়।
তবে এবার প্রশ্ন বিনামূল্যে যে ভোগ নিবেদন করা হয় সেই ভোগের টাকা কে দিয়ে থাকে? এ বিষয়ে পুলক বাবু জানান “তারাপীঠ আগত বহুভক্ত মা তারার মন্দিরে ভান্ডারা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকেন, সেখানে বহু ভক্ত বিনামূল্যে ভোগ গ্রহণ করতে পারেন।” ভোগ রান্নায় থাকে পরম পবিত্রতা ও ভক্তি। পোলাও, গরম ভাত, সুস্বাদু ডাল, ভাজা, মিক্সড ভেজ বা তরকারি, মাছ, চাটনি, পাঁপড়, মিষ্টি, পায়েস, এবং অবশ্যই মায়ের বিশেষ আমেজের ভোগ যা মুখে দিলেই অমৃতের মতো লাগে।
অনেকেরই ধারণা থাকে, তীর্থক্ষেত্রে গিয়ে পেটপুরে খেতে গেলে পকেট ফাঁকা হতে বাধ্য। কিন্তু তারাপীঠের এই অন্নদান সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। মা তারা নিজেই যেন অন্নপূর্ণা হয়ে তাঁর সন্তানদের অন্ন জোগাচ্ছেন এখানে। সারাদিনের ধকল, লাইনে দাঁড়ানোর ক্লান্তির পর এই এক থালা মহাপ্রসাদ মুখে তোলার পরেই নিমেষে উধাও হয়ে যায় যাবতীয় ক্লান্তি। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রসাদ কেবল খাবার নয়, এটি স্বয়ং মা তারার আশীর্বাদ, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সমস্ত রোগ-ব্যাধি দূর করে এবং জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
