Last Updated:
Mukutmanipur Weekend Tour: থেমে গিয়েছে কাঁসর-ঘণ্টা। মিলিয়ে গিয়েছে ধূপধুনো চুয়াচন্দনের গন্ধ। জমিদার পরিবারের কুলদেবতার বিগ্রহহীন প্রাচীন মন্দির মুকুটমণিপুরে জল থেকে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে। আবার ডুবে যায়। জানুন বিশদে।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: বর্ষার মরশুমে কংসাবতী জলাধারের জলস্তর বাড়তেই ধীরে ধীরে জলের তলায় হারিয়ে যায় একটি প্রাচীন মন্দির। আবার শীতে জল কমলে মাথা তুলে দাঁড়ায় ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষী। মুকুটমণিপুরের কংসাবতী জলাধারের কুমারী নদীর অংশে একটি দ্বীপের উপর অবস্থিত এই রহস্যময় মন্দির। দ্বীপের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিগ্রহহীন প্রাচীন স্থাপত্যটি। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে গবেষকদের একাংশের দাবি, এটি রানিবাঁধের পুড্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন ঝরিয়া গ্রামের লক্ষ্মী-জনার্দন মন্দির। মুকুটমণিপুরে বেড়াতে গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই মন্দিরের দর্শনও হতে পারে পর্যটকদের কাছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
ষাটের দশকে কংসাবতী জলাধার নির্মাণের সময় বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার মোট ১৭৩টি মৌজা এই প্রকল্পের আওতায় আসে। জলাধার তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেই সূত্রেই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয় রানিবাঁধের পুড্ডি পঞ্চায়েতের ঝরিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের কথায়, গ্রামের জমিদার পরিবার সুবুদ্ধিদের কুলদেবতা ছিলেন লক্ষ্মী-জনার্দন। উচ্ছেদের সময় তাঁরা নিজেদের আরাধ্য বিগ্রহ সঙ্গে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে মন্দিরটি থেকে যায় বিগ্রহহীন অবস্থায়। একসময় যেখানে নিয়মিত পুজো-অর্চনা হত, আজ সেখানে শুধুই অতীতের স্মৃতি আর ইতিহাসের ছাপ।
কংসাবতী জলাধার নির্মাণের সময় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হলেও কোনও এক অজানা কারণে অক্ষত থেকে যায় এই মন্দির। ধর্মীয় সংস্কার, নাকি অন্য কোনও কারণ—তার স্পষ্ট উত্তর আজও অজানা। তবে দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়েছে মন্দিরের গায়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাদ, নষ্ট হয়েছে স্থাপত্যের কিছু অংশ। বর্ষাকালে জলাধারের জল বাড়তে শুরু করলেই মন্দিরটি ধীরে ধীরে জলের নীচে চলে যায়। প্রায় তিন থেকে চার মাস সম্পূর্ণ জলের তলায় থাকে সেটি। জল কমলেই আবার দৃশ্যমান হয় প্রাচীন মন্দির। বছরের পর বছর ধরে প্রকৃতির এই লুকোচুরি যেন মন্দিরটিকে ঘিরে তৈরি করেছে এক বিশেষ রহস্যময় আবহ।
