Last Updated:
Women Dhaki: হাতে কাঠি, কাঁধে ভারী ঢাক আর চোখে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন! সেকান্দ্রাবাদে বাজিয়ে প্রশংসা কুড়োনো পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর ৭ জন বধূর ‘মহিলা ঢাকি’ দল এবার পুজোর শেষ মুহূর্তে কাজের বরাতের অপেক্ষায় প্রস্তুত।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। আর এমন সময়েই পুজোর মরশুমে ঢাক বাজিয়ে রোজগারের আশায় দিন গুনছেন পূর্ব বর্ধমানের একদল মহিলা। সংসারের চৌহদ্দি পেরিয়ে যাঁরা হাতে তুলে নিয়েছেন ঢাক, নিজেদের দক্ষতায় তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়, তাঁরাই এখন অপেক্ষায় রয়েছেন পুজোমণ্ডপ থেকে ডাক পাওয়ার।
পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের পাটুলি মধুপুরের দাসপাড়ার এই মহিলা ঢাকিদের কাছে ঢাক শুধুমাত্র ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, স্বনির্ভর হয়ে ওঠারও এক নতুন পথ। তবে পুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি থাকলেও এখনও মেলেনি বড় কোনও বরাত। শিল্পী শিখা দাস, খুকুমণি দাসেরা বলেন, “দূরের রাস্তা বলে এবারে বাইরে যায় নি। স্থানীয় আশপাশের কোনও জায়গা থেকে বরাত আসে কিনা সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে আমাদের এই দল তৈরি হয়েছিল।” এই দলের পথচলার শুরু হয়েছিল শিখা দাসের হাত ধরে। পরিবারের পুরুষদের ঢাক বাজাতে দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, এই কাজ শিখে তিনিও সংসারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই গ্রামের অন্য মহিলাদের সঙ্গে কথা বলা। এরপর খুকুরানি দাস, দাসীবাণী বাগ, কাজল দাস, কৈকা দাস, চামেলী দাস-সহ একে একে অনেকেই যোগ দেন এই দলে।
নিজেদের চেষ্টায় ঢাক বাজানো শিখে তাঁরা পাড়ি দিয়েছেন গ্রামের বাইরেও। গত বছর দুর্গাপুজোয় সেকান্দ্রাবাদে ঢাক বাজানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছিল। এবছর ওড়িশা-সহ দূরের কয়েকটি জায়গা থেকে প্রস্তাব এলেও বড় ঢাক নিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াতের সমস্যার কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত সেই বরাত নেননি তাঁরা। তাই এখন অপেক্ষা আশপাশের কোনও পুজোমণ্ডপ থেকে ডাক আসার।পুজোর আগে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পাটুলি মধুপুরের মহিলা ঢাকিরা।
তাঁদের হাতে ঢাক প্রস্তুত, তালে রয়েছে আত্মবিশ্বাস, রয়েছে নতুন করে কাজ পাওয়ার প্রত্যাশাও। কিন্তু শুধু ইচ্ছা বা দক্ষতা থাকলেই তো হয় না, প্রয়োজন কাজের সুযোগ এবং যাতায়াতের উপযুক্ত ব্যবস্থা। এই মহিলারা চান, পুজোর মরসুমে তাঁদের বাজনার কদর বাড়ুক, মিলুক কাজের সুযোগ, আর নিজেদের উপার্জনে আরও শক্ত হোক সংসারের ভিত। তাই ঢাকের চামড়া ঠিক করা থেকে বাদ্যযন্ত্র গুছিয়ে রাখা, সবই চলছে জোরকদমে। এখন শুধু অপেক্ষা, শেষ মুহূর্তে কোনও পুজোমণ্ডপ থেকে ডাক আসে কি না।
