Last Updated:
Durga Puja 2026: মঙ্গলকোটে ৩৩তম বর্ষে অভিনব থিমের পুজো উপহার দিচ্ছে কাশেমনগর দীর্ঘশোয়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। ‘শস্যশ্যামলা বসুন্ধরায় সম্পূর্ণা’ থিমের মাধ্যমে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ ও সামাজিক নারীশক্তিকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম কাশেমনগর দীর্ঘশোয়া। সেখানেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দেবী আরাধনার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে কাশেমনগর দীর্ঘশোয়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। পুজোর ৩৩তম বছরে প্রথমবার থিমের আয়োজন। থিমের নাম ‘শস্যশ্যামলা বসুন্ধরায় সম্পূর্ণা’। বিশ্ব উষ্ণায়ন, পরিবেশ দূষণ এবং ক্রমশ কমতে থাকা সবুজের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ভাবনা। মাত্র এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ দশ হাজার টাকার সীমিত বাজেটে প্রকৃতি, নারীশক্তি ও বসুন্ধরাকে ঘিরে এক অভিনব ভাবনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।
পুজো কমিটির সেক্রেটারি পীযূষ মাঝি বলেন, “পরিবেশ দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় এবং চারিদিকে সবুজের অভাবকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ পরিবেশ সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা থেকে এবারের থিমটি তৈরি করা হয়েছে।”এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ দেবী দুর্গার এক অন্য রূপ। অসুর বধের পর এখানে তিনি শুধু দশভুজা শক্তির প্রতীক নন, বরং শান্ত-সমাহিত দ্বিভুজা ‘অভয়া’ যিনি স্নেহের পরশে আগলে রাখছেন গোটা বসুন্ধরাকে। আর এই মাতৃশক্তির পূর্ণতা এসেছে সমাজের নানা ক্ষেত্রে নারীর অবদানের মধ্য দিয়ে। কখনও সংসারের মঙ্গল কামনায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালানো গৃহিণী, কখনও মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করা নারী, আবার কখনও শিক্ষার আলোয় সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নারী, সকলের সম্মিলিত শক্তিতেই এখানে পূর্ণতা পেয়েছেন দেবী দুর্গা।
স্থানীয় শিল্পী রুদ্রপ্রসাদ ঘটকের পরিকল্পনায় প্রায় দু’মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই শিল্পভাবনা। মাটির প্রতিমা, শোলার অলংকার এবং প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশবান্ধব ভাবনাকে। শিল্পী রুদ্র প্রসাদ ঘটক বলেন, “এখানে দেবী দুর্গা যে আমাদের দশভুজা, সেই দশভুজাকে আমাদের সামাজিক যে নারীশক্তি, সেই নারীশক্তির শক্তি মিলিত হয়েই যে দেবী দুর্গা এখানে সম্পূর্ণা রূপ পেয়েছে, সেটাকে মেনলি তুলে ধরা হয়েছে।”মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভিতরের সাজসজ্জা, সবেতেই রয়েছে প্রকৃতিকে বাঁচানোর আবেদন। নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে নিয়ে গাছ লাগানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এমনই সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে শিল্পকর্মের মাধ্যমে।
পাশাপাশি, পুরনো দিনের নানা সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট্ট সংগ্রহশালা, যা মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের চিরন্তন সম্পর্কের কথা। একদিকে নারীশক্তির সম্মিলিত রূপ, অন্যদিকে সবুজ পৃথিবীকে রক্ষা করার আহ্বান। সনাতন ভাবধারার আবহে এই দুই ভাবনাকেই এক সুতোয় বেঁধেছে কাশেমনগর দীর্ঘশোয়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। সীমিত বাজেটের মধ্যেও অভিনব ভাবনায় দর্শনার্থীদের মন জয় করার ব্যাপারে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশা, এই মণ্ডপ শুধু পুজোর আনন্দ দেবে না, বাড়ি ফেরার পর প্রত্যেকের মনেও জাগিয়ে তুলবে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ববোধ।
