Last Updated:
বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড়ের দাসবাড়িতে ১৫০ বছরের দুর্গাপুজো। স্বপ্নাদেশের পর কীভাবে শুরু হল মূর্তি পুজো? জানুন হরগৌরী আরাধনার ঐতিহ্য ও ইতিহাস।
বর্ধমান: বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড়ের দাসবাড়ির পুজো ১৫০ বছরের পুরনো। একসময় বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড়ের জমিদারবাড়ি বা দাসবাড়ির পুজোর প্রচলন করেছিলেন তৎকালীন জমিদার মাখনলাল দাস। কিন্তু মাখনলাল দাসের সময়ে ঘটে পুজো হতো। মূর্তি পুজো হতো না। পরবর্তী কালে মাখনলালের পুত্র ব্রজেন্দ্রলাল দাস স্বপ্নাদেশ পেয়ে মূর্তি পুজো শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ব্রজেন্দ্রলাল দাসকে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার কথা বলেন। আর সেই বছর থেকেই মা দুর্গার মূর্তি পুজোর প্রচলন হয়ে যায় আনোয়ার বেড়ের জমিদার পরিবারে। স্বপ্নাদেশ মোতাবেক তৈরি হয় মূর্তিও। একচালার কাঠামোয় বসে থাকা দেবীর ডান পাশে বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব। শিব-পার্বতীর দুপাশে লক্ষ্মী আর সরস্বতী বসে। তাঁদের নিচে বসে কার্তিক আর গণেশ। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, দাস পরিবারে হয় হরগৌরীর আরাধনা।
জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসের কোনও পুত্রসন্তান ছিল না। এই হতাশাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল এলাকার দাপুটে জমিদার তথা বর্ধমানের মহারাজার বিশিষ্ট বন্ধু ব্রজেন্দ্রলাল দাসকে। কথিত আছে, দেবীর সেই স্বপ্নাদেশের পর মহাসমারোহে হরগৌরী মূর্তি তৈরি করে পুজোর পরই ব্রজেন্দ্রলাল দাস পুত্রলাভ করেন। দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া বলে একমাত্র পুত্রের নাম রাখেন দুর্গাচরণ দাস।
তখন জমিদারি ছিল। পুজোর জাঁকজমক আর জৌলুসও ছিল নজরকাড়া। ব্রজেন্দ্রলালবাবুর আমল থেকেই দাসবাড়ির দুর্গাপুজো হয়ে আসছে পঞ্চমী থেকে। পঞ্চমীতে বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু পুজো। আগে পুজো উপলক্ষ্যে দরদালানে নিয়ম করে বসত যাত্রাপালা, গানের আসর। দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া দোতলার ঘর থেকে অন্দরমহলের মহিলারা তা উপভোগ করতেন। দাসবাড়ির পুজোর বিশেষত্ব বলতে কাঁঠালী কলা, নারকেলের বিভিন্ন মিষ্টি আর গাওয়া ঘি-এর লুচি। প্রত্যেক দিনই দেবীর কাছে এই ভোগ নিবেদন করা হয়।

