Last Updated:
বর্ধমান রাজবাড়িতে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পটে আঁকা দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। কেন মাটির প্রতিমার বদলে পটে আঁকা দুর্গার পুজো? জানুন রাজপরিবারের সেই প্রাচীন কাহিনি।
পূর্ব বর্ধমান: তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান রাজবাড়িতে পটে আঁকা দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই পটেই পুজো হয়ে আসছে। পট বদল না হলেও বারো বছর অন্তর পটের অঙ্গরাগ হয়। কিন্তু মাটির প্রতিমার বদলে কেন পটে আঁকা দেবীর পুজো হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কাহিনি।
বর্ধমান রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ এবং কেশব জিউ। কুলদেবী মা চণ্ডীকা। নিত্যপুজো হয় তাঁদের। মহারাজ মহাতাব চাঁদের ইচ্ছে হল দুর্গাপুজো করার। ডাক পড়ল রাজপুরোহিতের। সভাপণ্ডিতকেও ডাকা হল। কুলপুরোহিত বিধান দিলেন, যেহেতু মা চণ্ডীকা রয়েছেন, তাই আলাদা করে আর দুর্গাপ্রতিমা আনা যাবে না। মহারাজ চাইলে প্রতিমার বদলে পটে আঁকা দুর্গার পুজোর আয়োজন করতে পারেন। সেইমতো দাঁইহাট থেকে শিল্পী আনিয়ে পট আঁকা হল। শুরু হল বর্ধমান রাজবাড়ির দুর্গাপুজো।
পটের পিছনের চালচিত্রে রয়েছে নানান পৌরাণিক কাহিনি। এছাড়া দশপ্রহরণধারিণী দুর্গার সঙ্গে বাহনসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ সবাই রয়েছেন। প্রতিমার বদলে পটে এঁকে পুজো হলেও রাজআমলে নিষ্ঠা ও আড়ম্বরে কিছুমাত্র ঘাটতি ছিল না। প্রজারা পুজো দেখতে হাজির হতেন রাজবাড়িতে। প্রসাদ, অন্নভোগ খেয়ে বিকেলে মেলা দেখে রাতে যাত্রাপালাগান শুনে ভোরে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা। কলকাতার নামি যাত্রাদল আসত। আমন্ত্রণ জানানো হতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। জমিদার, বন্ধু রাজারাও সপরিবারে আসতেন।
রাজআমল বিলুপ্তির পর সেই জাঁকজমক এখন আর নেই। মন্দির জীর্ণ। ঝাড়বাতি অদৃশ্য হয়েছে অনেক আগেই। তবে এখনও রীতিমেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। এখানে পুজো ন’দিনের। প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু হয়, চলে নবমী পর্যন্ত। আগে একশো ঢাকের শোভাযাত্রা করে মহাসমারোহে কৃষ্ণসায়র থেকে ঘট আনা হতো। এখন ঘট ভরা হয় গঙ্গাজলে। আগে সুপারি বলি হলেও এখন তা বন্ধ। এখনও নবমীতে কুমারীপুজো হয়।

