Last Updated:
বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শিল্পে সর্বোচ্চ ১২০% পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা, SGST ছাড়, বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড়, জমির স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত-সহ একাধিক সুবিধার কথা বলা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা ও ওষুধশিল্প-সহ ১৫টি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কলকাতাঃ রাজ্যে শিল্পের জোয়ার ফেরাতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিল্পনীতির উদ্বোধন করা হয়। শিল্প-বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলায় বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং বন্ধ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বাংলায় শিল্প স্থাপন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতিতে একাধিক আর্থিক সুবিধা ও পরিকাঠামোগত সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পের ধরন এবং এলাকার ভিত্তিতে মিলবে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা। উৎপাদন শিল্প থেকে শুরু করে পরিষেবা ক্ষেত্র, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন শিল্পনীতির ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে:
১. বিনিয়োগে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা
২. উৎপাদন ও পরিষেবা শিল্পে আলাদা সময়সীমা
৩. SGST, বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড়
৪. পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প গড়লে বাড়তি সুবিধা
৫. ১৫টি বিশেষ শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব
৬. বড় শিল্প প্রকল্পে আলাদা সুবিধা
৭. পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারে ছাড়
৮. শিল্পের পরিকাঠামো তৈরিতে আর্থিক সহায়তা
৯. বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবনে বিশেষ সুবিধা
১০. হাসপাতাল, কলেজ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড়
নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলায় টানার চেষ্টা করছে রাজ্য, অন্যদিকে তেমনই পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে চাইছে সরকার। তবে এই নীতির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয় এবং বাংলায় কতটা নতুন বিনিয়োগ আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে শিল্পমহলের।

