Last Updated:
CM Suvendu Adhikari on Singur: সিঙ্গুরে নতুন শিল্প গড়ার পরিকল্পনা রাজ্যের, জানুয়ারিতে পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিটের ভূমিপুজো।
কলকাতা: হুগলির সিঙ্গুরে ফের শিল্প গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতির ঘোষণা করে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপনের বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। শুধু সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে প্রচারের আলোয় আসা নয়, বাস্তবে শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের অভিযোগে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে নেয় টাটা গোষ্ঠী। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শিল্পের জন্য জমি নিতে গিয়ে কৃষকদের উপর গুলি চালানোর কোনও প্রশ্নই নেই। তবে শিল্পের স্বার্থে জমি কেনার প্রয়োজন হলে সরকার উদ্যোগী হবে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই বহু সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থাকে তিন মাসের মধ্যে সেই জমি কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে জমি সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। জমি কিনে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য নাবার্ডের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সরকারের হাতে থাকা এবং উদ্ধার হওয়া জমিকে কাজে লাগিয়ে আগামী কয়েক মাসে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে প্রায় দু’কোটি শিক্ষিত বেকার এবং ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাই শিল্পের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানেও জোর দিতে চায় সরকার। অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাংলায় যেখানে প্রায় ৪০০ টাকা, সেখানে হায়দরাবাদে তা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়াও ‘কর্মযোগী’ নামে নতুন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য স্কলারশিপ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরির সুযোগ করে দিতে সজ্জন জিন্দলকেও অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দু’বছর এই উদ্যোগগুলির ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।

