Last Updated:
Khalor Kali Bari: ৪৫০ বছরের প্রাচীন হাওড়ার বাগনানের জাগ্রত খালোড় কালীবাড়িতে অন্নভোগ বুকিং করবেন কীভাবে? ফোন নম্বর, ইতিহাস ও দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ সময়সূচি জানুন।
বাগনান, রাকেশ মাইতি: হাওড়া জেলার বাগনানের অন্যতম প্রধান জাগ্রত খালোড় গ্রামের ঐতিহাসিক খালোড় কালীবাড়ি। প্রায় ৪৫০ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে দেবী কালীর অপার্থিব মাহাত্ম্য ও অলৌকিক শক্তির কথা আজও লোকমুখে প্রচারিত। বিশ্বাস ও ভক্তির টানে নিত্যদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে এই পুণ্যভূমিতে। মায়ের ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি ভোগ গ্রহণের নির্দিষ্ট নিয়ম বিধি রয়েছে এখানে। সারা বছর বিশেষ দিনগুলিতে মায়ের জাঁকজমক করে আরাধনার পাশাপাশি আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে সাড়ম্বরে পুজোর আয়োজন হয়।
কথিত রয়েছে, ৪৫০-৫০০ বছর আগে বর্ধমান রাজ আমলে রাজা কনদর্পনারায়ণ স্বপ্নাদেশ দামোদর নদীর চর জনমানবীহীন জঙ্গলময় এলাকায় খালোড় কালী মায়ের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই থেকে বাগনানের খালোড় গ্রামে নিয়ম নীতি মেনে মায়ের পুজো চল। নিত্যদিনের সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিত্য পুজো শুরু হয়। দুপুর ১টা থেকে ১:৩০-এর মধ্যে পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে অন্নভোগ নিবেদনের পর তা ভক্তদের প্রদান করা হয়। অন্নভোগ গ্রহণে ইচ্ছুক ভক্তদের সকাল ৯টার মধ্যে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে অথবা ফোন বা অনলাইনে বুকিং করা আবশ্যক। বিকেল ৫টায় মায়ের বিশ্রাম শেষে পুনর্দ্বারের পর সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭টার মধ্যে আরতি অনুষ্ঠিত হয় এবং রাত ৯টায় মন্দির বন্ধ হয়।
দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে সকাল থেকে বিশেষ পুজো ও আরাধনা। রাত ১০টা হোম, যজ্ঞ ও বিশেষ পাঠ। রাত ১২টা বলিদান পর্ব ও অন্নভোগ নিবেদন। ভোর ৫টা ভক্তদের মধ্যে অন্নভোগ বিতরণ শুরু হয়। ভোর ৫টার মধ্যে আসা সকল ভক্তই প্রসাদ পাবেন। আষাঢ় সংক্রান্তিতে মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে অন্নভোগ বিতরণের পাশাপাশি কৌশিকী ও পৌষ অমাবস্যায় যথাক্রমে ‘মূলোকালী’ ও ‘তালকালী’ পুজোয় মণ্ডপ চত্বরে মেলা বসে।
সারা বছর প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত ভক্ত সমাগম ঘটে এখানে। মন্দিরে আসা এক ভক্তের কথায়, বর্ধমান রাজ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই মা ভীষণ জাগ্রত। ভক্তি ভরে ডাকলে মা মনস্কামনা পূর্ণ করেন। খালুর কালী মন্দিরে পুজো এবং ভোগ বুকিং করতে সকাল ন’টার মধ্যে হাজির অথবা ফোনের মাধ্যমে ৮৭৭৭৩৫২১০৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। জাতীয় সড়ক বাগনান লাইব্রেরী মোড় থেকে সামান্য দূরত্বে অবস্থিত। এই মন্দিরে ভক্তদের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
