Headlines

Crime News: চালচলন মেলাতেই খেল খতম! CCTV-তে হাঁটার ধরনে অপরাধের পর্দাফাঁস, এটিএম ভাঙার মামলায় বৈজ্ঞানিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত দুষ্কৃতী | Purba Medinipur district police successfully crack an ATM theft case using advanced forensic gait analysis and CCTV footage | পূর্ব মেদিনীপুর


Last Updated:

Crime News: গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম ভেঙে চুরির ঘটনা দুই বছর আগের! সিসিটিভির ফুটেজে অপরাধীর হাঁটার ধরন মিলিয়ে বৈজ্ঞানিক তদন্তে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তারপর অভিযুক্তকে ২ বছর ৩ মাসের সাজা দিল আদালত।

+

হাঁটার

হাঁটার ধরন ধরিয়ে দিল অপরাধীকে

সৈকত শী, তমলুক: আধুনিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের ওপর ভরসা রেখে সাফল্য এল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের। ধরা পড়ল চোর। সাজা দিল জেলা আদালত। ঘটনার প্রসঙ্গ প্রায় দু বছর আগের। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রাত থেকে ১২ জুলাই ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে তমলুক থানা এলাকায় একটি এটিএম চুরির ঘটনা ঘটে। এটিএমটি নিমতৌড়ি চৌরাস্তা থেকে শ্রীরামপুর যাওয়ার রাস্তার পাশে ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১২ জুলাই সকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় তমলুক থানার পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম ভেঙে চুরি করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এটিএম কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তমলুক থানায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।

তমলুক থানার পুলিশ তদন্তে নেমে স্থানীয় সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য, CCTV ফুটেজ, মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্যে অভিযুক্ত উত্তম কুমার মাইতিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে CCTV ফুটেজে ধরা পড়া ব্যক্তির হাঁটার ধরনের সঙ্গে অভিযুক্তের হাঁটার ধরনের বৈজ্ঞানিক তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিসিটিভি ফুটেছে ধরা পড়া ব্যক্তির হাঁটার ধরণ ও অভিযুক্তের হাঁটার ধরণ একই। আর তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত হন মামলার তদন্তকারী অফিসারেরা।

আরও পড়ুন: বাঁশি, অক্টোপ্যাড থেকে তানপুরা! সুরসাধনার সঙ্গে নিপুণ তুলির আঁচড়, দাঁতনের লড়াকু যুবকের সংগ্রাম অনুপ্রেরণার

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আদালতে এই মামলার থানার তদন্তকারী অফিসারেরা নিজেদের মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ দাখিল করেন। সেই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পূর্ব মেদিনীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত উত্তম কুমার মাইতিকে দোষী সাব্যস্ত করে। সাজা হিসাবে ২ বছর ৩ মাস সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৯ মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে কাটানো হাজতবাসের সময় মূল কারাদণ্ডের সঙ্গে আইন অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি, জরিমানার অর্থ আদায় হলে তার মধ্যে থেকে ৪০ হাজার ৪০০ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এই মামলায় সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর সফিউল আলি খান। তিনি বলেন, তমলুক থানার অন্তর্গত নিমতৌড়িতে একটি এটিএম ভেঙে টাকা চুরি করে দুষ্কৃতী। এই এটিএমটির ফ্রাঞ্চাইজি নিয়েছিলেন অমল মাইতি নামে এক ব্যক্তি। তিনি থানায় অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে এটিএম এর সিসিটিভি ও পাশের ওষুধ দোকানের সিসিটিভি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলার সময় উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে অভিযুক্ত উত্তম কুমার মাইতিকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অভিযোগ এর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য দেখে পুলিশ তাকে চিহ্নিত করে। সেই মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে আদালত।”

আরও পড়ুন: ককটেল তুবড়ি, কালার চেঞ্জিং ফুলঝুরি..! এবার বাজার কাঁপাতে প্রস্তুত বুড়িমার গ্রিন বাজি, দাম কত?

প্রসঙ্গত তমলুক জেলা আদালতের বিচারক তদন্তের আন্তরিকতা এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ ও আদালতে উপস্থাপনের জন্য তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের, বিশেষত প্রথম তদন্তকারী আধিকারিক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর সুজিত দেববর্মন এবং দ্বিতীয় তদন্তকারী আধিকারিক সাব ইন্সপেক্টর স্বরূপ কুমার ঘোষের ভূমিকার প্রশংসা করে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চোর ধরে তাঁকে আদালতে হাজির করে সাজা পাইয়ে দিল তমলুক থানার পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *