Headlines

Kali Puja 2026: মা কালীর পাতে ইলিশ-চিংড়ি, বিশেষ পদ ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ! ২৫০ বছর পেরিয়েও অটুট শান্তিপুরের লাহিড়ী পরিবারের নিয়ম | 250-year-old Kali Puja tradition of the Lahiri family in Santipur | নদিয়া


Last Updated:

Kali Puja 2026: ১৭৬৯ সালে গঙ্গার তীরে পথচলা শুরু! নদিয়ার শান্তিপুরের সুপ্রাচীন লাহিড়ী বাড়িতে আজও অটুট ২৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য। ইলিশ ও চিংড়ি মাছের বিশেষ ভোগ এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের ধুনো পোড়ানোর প্রথা নিয়ে বেঁচে রয়েছে এই শাক্ত আরাধনা।

+

পারিবারিক

পারিবারিক কালীপুজোয় আজও অটুট পুরনো নিয়ম

শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: ইতিহাসের সাক্ষী প্রায় ২৫০ বছরের ঐতিহ্য! শান্তিপুরের লাহিড়ী বাড়িতে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হন মা কালীশাক্ত আরাধনার ঐতিহ্যে নদিয়ার শান্তিপুরের পরিচিতি বহু প্রাচীন। শহরের একাধিক প্রাচীন কালীপুজোর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য লাহিড়ী বাড়ির কালীপুজো। প্রায় ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই পুজো। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলেছে সামাজিক জীবনযাত্রাও। কিন্তু লাহিড়ী পরিবারের কালী আরাধনার রীতিতে আজও বিশেষ পরিবর্তন আসেনি।

পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, আনুমানিক ১৭৬৯ সালে এই পুজোর সূচনা। সেই সময় শান্তিপুর ছিল জমজমাট আধা শহরের জনপদ। বর্তমানে যেখানে লাহিড়ী বাড়ি, সেখানেই বসবাস করতেন গঙ্গাকান্ত ডাক্তার। শান্তিপুরের একাধিক কালীপুজো দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও বাড়িতে মা কালীর আরাধনা শুরু করেন। শুরু থেকেই বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে পুজোর আয়োজন করা হত। দেখতে দেখতে কয়েক শতক পার করলেও সেই ঐতিহ্য আজও অটুট।

আরও পড়ুন: ভাবা যায়! ১০ টাকায় এগরোল-চাওমিন, কীভাবে জলের দরে মুখরোচক ফাস্টফুড খাওয়াচ্ছেন মালদার গৃহবধূ?

এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব ভোগের আয়োজন। মাছ ছাড়া পুজোর ভোগ সম্পূর্ণ হয় না। ইলিশ ও চিংড়ি মাছের পাশাপাশি রকমারি নিরামিষ পদ, মুগের ডাল, অড়হর ডাল-সহ নানা পদ রান্না করা হয়। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য জয়ন্ত লাহিড়ীর কথায়, দুই ধরনের মাছ ভোগে থাকবেই। তবে রান্নার দায়িত্ব মূলত বাড়ির মহিলাদের। তাঁদের বাইরে অন্য কারও রান্নাঘরে হাত দেওয়ার অধিকার নেই। পুজোর দিন আরও একটি বিশেষ রীতি রয়েছে। অভিজ্ঞতার ভাগাভাগি ও পারিবারিক পরম্পরা মেনে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা ধুনো পুড়িয়ে মা কালীর আরাধনা করেন। পাশাপাশি কুমড়ো, আখ ও কলা বলি দেওয়ার প্রথাও রয়েছে। বলি না হলেও এই রীতির মাধ্যমে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।

আরও পড়ুন: এসি রেস্তোরাঁ ফেল, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাত্র ৪৯ টাকায় অ্যাভোকাডো টোস্ট, চিয়া পুডিং! শিলিগুড়িতে ধামাকা ফাস্টফুড বিক্রেতার

একসময় লাহিড়ী বাড়িতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজনও হত। বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেলেও কালীপুজোই পরিবারের প্রধান উৎসব। পরিবারের আটটি শাখার সদস্যরা মিলিতভাবে এই পুজোর দায়িত্ব সামলান। অশোক লাহিড়ী, কিশোর লাহিড়ী ও গৌরাঙ্গ লাহিড়ী-সহ পরিবারের সদস্যরা পুজো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকেই পালা করে দু’দিন করে দেবীর সেবায় নিয়োজিত থাকেন। সময়ের স্রোতে বহু প্রাচীন রীতি হারিয়ে গেলেও শান্তিপুরের লাহিড়ী বাড়িতে আড়াইশো বছরের ইতিহাস আজও বেঁচে রয়েছে মা কালীর আরাধনায়। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এই পুজো আজও পরিবারের সদস্যদের একসূত্রে বেঁধে রাখার এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *