Last Updated:
বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেও এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত সিপিআইএম-এর ফেসবুক পেজ থেকে ওই পোস্ট সরানো হয়নি৷
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রীতিমতো তুই তোকারি করে আক্রমণ৷ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বিতর্কে সিপিআইএম৷ ফেসবুকে পশ্চিমবঙ্গ সিপিআইএম-এর পেজেই মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এই বিতর্কত পোস্ট করা হয়েছে৷
সম্প্রতি চিনা টুনি বাল্ব না কেনার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট দিয়ে ওই পোস্ট করা হয়েছে সিপিআইএম-এর ফেসবুক পেজ থেকে৷ সঙ্গে লেখা হয়েছে, আগে বাপকে গিয়ে বল চিনের কোম্পানি না কিনতে৷
সিপিআইএম-এর পেজ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে করা এই পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়৷ রাজনৈতিক আক্রমণ করতে গিয়ে শালীনতার সীমা অতিক্রম করার পুরনো অভিযোগ নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়৷ ভোটের লড়াইয়ে যত দুর্দশাই হোক না কেন, এখনও বঙ্গ রাজনীতিতে সিপিআইএম-কে শিক্ষিত রাজনীতিবিদদের দল হিসেবেই ধরা হয়৷ তাঁদের ফেসবুক পেজ থেকে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এমন আপত্তিকর পোস্ট করা হল এবং দলীয় নেতৃত্বও তাতে অনুমোদন দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷
বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই দুই মত উঠে এসেছে সিপিআইএম-এর দুই তরুণ প্রজন্মের নেতার মুখে৷ সিপিআইএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রীর ভাষা সমীচীন ছিল? তিনিও তো লেনিনের পেটে গিয়ে কী সব করতে বলেছিলেন৷ দেশের বিদেশ নীতি রাখব এক রকম, আমদানি- রফতানি নীতি রাখব একরকম, আবার মুখের ভাষণ রাখব এক রকম, এগুলো কোনও কাজের কথা নয়৷’
যদিও এই ধরনের পোস্টকে কোনওভাবেই সমর্থন করেননি ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা৷ দলের ফেসবুক পেজ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে করা পোস্টের সমালোচনা করেই তিনি বলেন, ‘আমি পোস্টটা দেখিনি৷ যদি আমাদের ভেরিফায়েড পেজ থেকে এই পোস্ট করা হয়ে থাকে তাহলে তা কখনওই কাঙ্খিত নয়৷ শুধু মুখ্যমন্ত্রী কেন, কারও সম্পর্কে ওপেন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের মন্তব্য করা কখনওই উচিত নয়৷ রাজনীতিতে শালীনতা, ভদ্রতা সবসময় মেনে চলা উচিত৷’
সিপিআইএম-এর পেজ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে এই আক্রমণে হতবাক রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল৷ তাঁর কথায়, ‘আজকে সিপিআইএম-এর ফেসবুক পেজ থেকে যে ভাষাতে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করা হয়েছে, আমরা খুব হতবাক, আমরা খুব অবাক হয়ে গেছি। আজকে অফিশিয়াল পাতা থেকে তারা পোস্ট করছে ‘তোর বাপকে গিয়ে বল।’ এর বিচার তো বাংলার মানুষ করছেই। যখন তাদের পায়ের তলা থেকে সমস্ত মাটি সরে যাচ্ছে, বাংলার মানুষ তাদেরকে একদম প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন বোঝা যায় যে যে আদর্শের বড় বড় কথা তারা বলে, সেটা শুধু মুখেরই কথা।’
মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এই ধরনের ভাষাকে সমর্থন করেননি মমতা তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও৷ তাঁর মতে, এই ধরনের ভাষার ব্যবহার করে বিষয়টির গুরুত্বই লঘু করে দেওয়া হয়েছে৷ কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এটা না বলাই ভাল৷ বিষয়বস্তুটা যথেষ্ট সিরিয়াস৷ সাধারণ বাংলায় লিখলেও বিষয়টা বোঝানো যেত৷ খারাপ ভাষা ব্যবহার করায় বিষয়টা ওইদিকে চলে যাচ্ছে৷ ভাষাটা ব্যবহার না করাই উচিত ছিল৷’

