এক্স-এ একটি পোস্টে ভান্ডারি বলেন, সনিয়া গান্ধীর মন্তব্য এই সত্যকে বদলাতে পারবে না যে ইন্দিরা গান্ধীই জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভান্ডারি লেখেন, “সনিয়া গান্ধী জরুরি অবস্থাকে ন্যায্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন! তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে একজন ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর জনসংযোগের প্রচেষ্টা সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন এবং রাজীব গান্ধী তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—‘‘একটা বড় গাছ পড়লে মাটি কেঁপে ওঠে’—এর মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে শিখদের গণহত্যাকে ন্যায্যতা দিয়ে সেই উত্তরাধিকারই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন! গান্ধী-ভদ্র পরিবারকে দেশ ক্ষমা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না!’’
জরুরি অবস্থা নিয়ে কী বলেছিলেন সনিয়া গান্ধী:
‘দ্য হিন্দু’-র এন রামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন সনিয়া গান্ধী। সেই সময়ে সংঘটিত বাড়াবাড়ির জন্য তিনি শুধুমাত্র সঞ্জয় গান্ধীকে দায়ী করতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্দিরা গান্ধীর একাধিক প্রবীণ সহকর্মীও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে চলেছে সনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey Of Love’। তার আগেই এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
সংবাদপত্রকে তিনি জানান, “শুধুমাত্র সঞ্জয়ই ছিলেন না, যদিও সাধারণ মানুষের মনে জরুরি অবস্থার সঙ্গে প্রায়শই তাঁর নাম সমার্থক হয়ে উঠেছে। তাঁর কয়েকজন প্রবীণ সহকর্মীর কাছ থেকেও যথেষ্ট চাপ ছিল। আমার মনে হয়, রাজীবের মতো খুব কম মানুষই তাঁর আশপাশে ছিলেন, যাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন।”
সনিয়া আরও জানান, রাজীব গান্ধী তাঁর মায়ের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরতেন। তাঁর কথায়, শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধী পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছিলেন এবং তা মোকাবিলায় পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমার শাশুড়ি নিজের প্রজ্ঞার মাধ্যমে পরিস্থিতি বুঝতে শুরু করেছিলেন এবং তার প্রতিকারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।”
সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে আক্রমণ বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘের:
বিজেপি সরকার এবং ভারতের প্রতিষ্ঠান ও গণতন্ত্রের উপর তার প্রভাব নিয়ে সনিয়া গান্ধীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘও।
দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় চুঘ বলেন, ভারতের সংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিদেশি আক্রমণ ও ঔপনিবেশিক শাসন সহ্য করে টিকে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে। তিনি শ্রী রাম জন্মভূমিতে রাম মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, গান্ধী পরিবারের তিন প্রজন্ম এই মন্দির নির্মাণ আটকানোর চেষ্টা করেছে।
চুঘ বলেন, “সনাতন বিশ্বাসের এই পুনরুত্থান, যেখানে ঐতিহ্য ও উন্নয়ন হাতে হাত রেখে একই পরিসরে বেড়ে উঠছে, তা আপনার পক্ষে কিছুতেই সহ্য করা সম্ভব নয়।” সনিয়া গান্ধীর ইতালীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষও করেন তিনি। চুঘ বলেন, তিনি যদি তাঁর ‘ইতালিতে তৈরি চশমা’ খুলে ফেলেন, তা হলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস’ স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারের আমলে এগিয়ে চলা ভারতকে দেখতে পাবেন। তিনি ভারতের ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হারের উল্লেখ করেন এবং দেশকে এক উদীয়মান বিশ্বশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভারতীয় সেনাদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও সনিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চুঘ। তাঁর অভিযোগ, সেনাদের আত্মবলিদানের ঘটনায় সোনিয়া গান্ধী কোনও সমবেদনা প্রকাশ করেননি।
বিজেপি সরকারের সমালোচনায় সনিয়া গান্ধী:
‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সনিয়া গান্ধী বলেন, গত ১২ বছরে দেশের প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
