Last Updated:
Dilip Ghosh: মঙ্গলবার তিনি জেলা পরিষদের দফতরে যান। জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরী তালধি এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন।
ঝাড়গ্রাম: সুবর্ণরেখা ও কংসাবতী নদীর পাড় ভাঙন ক্রমশ বড় সমস্যা হয়ে উঠছে ঝাড়গ্রাম জেলায়। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একের পর এক কৃষিজমি। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা হারাচ্ছেন জমি ও ভিটেমাটি। অন্যদিকে, হাতির হানায় অতিষ্ঠ জেলার জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষ। এই দুই সমস্যা মোকাবিলায় এবার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নদীভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি এবং হাতির হানা ঠেকাতে পরিখা খননের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার তিনি জেলা পরিষদের দফতরে যান। জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরী তালধি এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকেই নদীভাঙন ও হাতির সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। অন্যদিকে, জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ দিয়ে প্রবাহিত সুবর্ণরেখা নদী। ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে জল ছাড়া হলে সুবর্ণরেখার জলস্তর বেড়ে যায়। জলস্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। সম্প্রতি মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে কংসাবতী নদীর উপর একাধিক বাঁশের সাঁকো ভেঙে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি কালভার্ট ও কজওয়ে। ফলে নদীভাঙন জেলার বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।
নয়াগ্রাম ব্লকের শুকদেবপুর থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ক্রমাগত নদীর পাড় ধসে পড়ছে। ভাঙনের জেরে শুকদেবপুর-সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রীর নিজের গ্রামের কাছাকাছি মালিঞ্চা গ্রামও নদীভাঙনের মুখে। শুকদেবপুর, কলমাপুকুরিয়া ও নরসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। শুকদেবপুরের বাসিন্দা আনন্দ রাউত বলেন, “নদী ক্রমশ জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ বিঘা জমি নদীর গ্রাসে চলে গিয়েছে। দ্রুত পাড় বাঁধানো না হলে বাকি জমিটুকুও রক্ষা করা যাবে না।”
অন্যদিকে, কংসাবতী নদীর ভাঙনে বৈতা এলাকায় বহু কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকের নয়াপাল, মাইতিপাড়া ও বড়কোলা এলাকাতেও নদীর পাড় ভাঙছে। বিগত সরকারের আমলে পায়াড়াগুড়ি এলাকায় পাড় বাঁধানোর কাজ হলেও অন্যান্য এলাকায় সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে।জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ কমল মাহাত বলেন, “সুবর্ণরেখা ও কংসাবতী নদীর পাড় ভাঙন রোধে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তিনি ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরি করে দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, হাতির সমস্যা মোকাবিলায় ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিখা খননের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন।”

