Last Updated:
Agniveer Service Tenure Extension: অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ ৪ বছর থেকে বেড়ে ৬ বছর? বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র।
নয়াদিল্লি: অগ্নিবীর প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করার একটি প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে কেন্দ্র। এই অতিরিক্ত দু’বছরের মেয়াদকে ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’ বলা হতে পারে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ছয় বছর পরিষেবা সম্পূর্ণ করার পর ইচ্ছুক এবং যোগ্য অগ্নিবীরদের নিয়মিত সেনাকর্মী হিসেবে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের এই মডেলে পরিবর্তন নিয়ে ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বরের আগেই সরকারি ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনায় স্বল্পমেয়াদি নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পে নির্বাচিত অগ্নিবীরদের চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়। চার বছর শেষে প্রতিটি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রাখা হয়। বাকি ৭৫ শতাংশকে পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের বয়স হতে হয় ১৭.৫ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পদ অনুযায়ী দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
প্রথম বছরে অগ্নিবীরদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা, যা চতুর্থ বছরে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা হয়। বেতনের ৩০ শতাংশ কেটে সমপরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট তহবিলে জমা করে। চার বছর শেষে পরিষেবা ছেড়ে যাওয়া অগ্নিবীররা প্রায় ১১.৭১ লক্ষ টাকার করমুক্ত ‘সেবা নিধি’ প্যাকেজ পান। পাশাপাশি দেওয়া হয় দক্ষতার শংসাপত্র। চাকরির সময় ৪৮ লক্ষ টাকার জীবনবিমার সুবিধাও থাকে। তবে অবসরের পর প্রচলিত পেনশন বা গ্র্যাচুইটির সুবিধা মেলে না।
২০২২ সালে নিয়োগ হওয়া প্রথম ব্যাচের চার বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছর। নৌসেনার প্রথম ব্যাচের মেয়াদ শেষ হবে ২১ নভেম্বর, বায়ুসেনার ২১ ডিসেম্বর এবং সেনাবাহিনীর ৩১ ডিসেম্বর।
প্রস্তাব কার্যকর হলে সেনাবাহিনীতে তিন ধরনের কর্মী থাকবেন—চার বছর মেয়াদ সম্পূর্ণ করা অগ্নিবীর, অতিরিক্ত দু’বছরের মেয়াদ পাওয়া অগ্নিবীর এবং স্থায়ী পদে নিয়োগ পাওয়া ২৫ শতাংশ কর্মী।
প্রথম ব্যাচের প্রায় ২৪,৪০০ অগ্নিবীরের মধ্যে ইতিমধ্যেই বায়ুসেনা ৭১২ জনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করেছে। নৌসেনায় প্রথম ব্যাচ থেকে প্রায় ৫৫০ জনের স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নৌসেনার প্রযুক্তিগত বিভাগে কর্মরত অগ্নিবীরদের ধরে রাখার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখতেই স্থায়ী নিয়োগের হার বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

