Headlines

Housewife returns to maternal home during Kali Puja and makes mundomala of idol ৬৯ বছর বয়সী প্রবীণ কারিগর কাশীনাথ কংসবণিক। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার নিষ্ঠার সঙ্গে বাঁচিয়ে রেখেছেন পৈতৃক এই কাজ। দুর্গোৎসবের পর থেকে কালীপুজো পর্যন্ত কাজের চাপ তুঙ্গে ওঠে। শান্তিপুরের বিখ্যাত আগমেশ্বরী, বোম্বাটে কালী, খুরখুরি কালী, মহিষখাগী কিংবা মাধব কালীর মতো বহু প্রাচীন বিগ্রহের খাঁড়া, চাঁদমালা, মুণ্ডমালা, ত্রিশূল, ডুগডুগি ও শিং পালিশ এবং সাজসজ্জার জন্য নিয়ে আসা হয় তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক সামগ্রীর কাজ জমা পড়েছে এবং পুজোর আগে পর্যন্ত এই ব্যস্ততা জারি থাকে। কাজে বাবাকে পূর্ণ সহায়তা করেন তাঁর বিবাহিত কন্যা বর্ণালী প্রামাণিক কংসবণিক। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাজ দেখতে দেখতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তিনি এই দক্ষতা অর্জন করেছেন। তবে প্রতিমার অলঙ্করণের মূল দায়িত্ব সামলান বর্ণালীদেবীই। বাবা কাশীনাথবাবু অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার ও বব হুইলের মাধ্যমে ধাতব সামগ্রী পালিশ করার পর বর্ণালীদেবী শুদ্ধাচারে পরিষ্কার ও বব হুইলের মাধ্যমে ধাতব সামগ্রী পালিশ করার পর বর্ণালীদেবী শুদ্ধাচারে চক্ষুদান করেন৷ |

Durga Puja 2026: পুজোর আলোয় ঢাকা পড়ে না জীবনের অন্ধকার, মৃতদেহ বহন করেই সংসার চালান কাটোয়ার তুলতুলি | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

কারও কাছে পুজো নতুন জামা আর আনন্দের, আবার কারও কাছে প্রতিদিনের উপার্জনই সবচেয়ে বড় চিন্তা।হাসপাতালে ও শ্মশানে পৌঁছে দিয়ে সংসার চালান তিনি।

দুর্গা পুজোতেও ছুটি নেওয়ার সুযোগ নেই তুলতুলির৷
দুর্গা পুজোতেও ছুটি নেওয়ার সুযোগ নেই তুলতুলির৷

কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, আলোয় সেজে ওঠা রাস্তা আর মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখনও কিছু মানুষের জীবনে লড়াই থামে না। কারও কাছে পুজোর আনন্দ, কারও কাছে আবার সংসারের দায়িত্ব সামলানোর কঠিন পরীক্ষা। কাটোয়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৫৪ বছরের তুলতুলি দে-র জীবন যেন সেই বাস্তবেরই প্রতিচ্ছবি। অসুস্থ স্বামী ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে মৃতদেহ বহনের মতো কঠিন কাজকেই জীবিকার পথ করে নিয়েছেন তিনি।

তুলতুলির স্বামী সেন্টু দে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, ছেলে দিলীপ শ্রমিকের কাজ করেন। একসময় সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তাঁর স্বামী। কিন্তু অভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ছোট ছেলের জন্য দুধ কেনার টাকাও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সংসারের হাল ধরতে কাজে নামেন তুলতুলি।

প্রথমে ১৫০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মৃতদেহ বহনের কাজ শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজই হয়ে ওঠে তাঁর জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর এলেই পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তুলতুলি। মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া কিংবা শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার মতো দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁকে।

যে সময়ে বহু পরিবার আপনজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে, সেই সময়ে মৃতদেহ বহনের কাজে যুক্ত থাকেন তিনি। অন্যের শোকের মুহূর্তের মধ্য দিয়েই তাঁকে খুঁজে নিতে হয় নিজের সংসার চালানোর রসদ।দুর্গাপুজোয় যখন চারদিকে উৎসবের আনন্দ, তখন তুলতুলির মতো মানুষের জীবন মনে করিয়ে দেয়, সমাজের সব ঘরে উৎসবের ছবিটা এক নয়।

অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার সামলানোর পাশাপাশি অন্যের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তুলতুলি। তাঁর জীবন তাই উৎসবের আলোর আড়ালে থাকা এক কঠিন বাস্তবের গল্প, যেখানে সংসার বাঁচানোর লড়াইটাই সবচেয়ে বড়। তুলতুলি বলেন, “এখন আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। অন্যের খারাপ পরিস্থিতি দেখে নিজের দুঃখ ভুলে যায়। যতদিন পারব এই কাজই করব।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *