Headlines

Inspirational Story: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে স্কেটিং করে ভারতভ্রমণ! পকেটে টাকা ছাড়াই ১১ জ্যোতির্লিঙ্গ ও ১৭ শক্তিপীঠ দর্শন | Rudra Kumar Patel travels across Indian states on skates without money relying on public help | লেটেস্ট খেলার খবর


Last Updated:

Inspirational Story: পকেটে টাকা নেই, কিন্তু আছে অদম্য ইচ্ছেশক্তি! ১৭টি রাজ্য ও নেপাল পেরিয়ে এবার বাংলায়, স্কেটিং জুতো পায়ে তীর্থক্ষেত্র দর্শনে মধ্যপ্রদেশের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রুদ্র কুমার প্যাটেল। পলিটেকনিক পাস করার পর সামান্য কিছুদিন চাকরি ও পরে চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রুদ্র।

+

স্কেটিং

স্কেটিং করে ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছেন যুবক

কেতুগ্রাম, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: স্কেটিং করে একের পর এক রাজ্য পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন মধ্যপ্রদেশের কাটনি-জব্বলপুরের বাসিন্দা ২৭ বছরের রুদ্র কুমার প্যাটেল। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর এই অভিনব ভারতভ্রমণ। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্য ঘুরে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছেন তিনি। এদিন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে বহুলা সতীপীঠ দর্শন করতে আসেন রুদ্র। এরপর তাঁর গন্তব্য বীরভূমের একটি সতীপীঠ। রুদ্র কুমার প্যাটেল বলেন,“আমার উদ্দেশ্য শুধু জায়গা দেখা নয়।

আমাদের ভারতবর্ষের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, প্রকৃতি এবং এখানকার মানুষকে কাছ থেকে দেখা। স্কেটিং করে ধীরে ধীরে চলার কারণে চারপাশটা ভাল করে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং তাঁদের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখা যায়। গাড়িতে গেলে হয়তো শুধু দর্শন করেই চলে যেতে হয়, কিন্তু এভাবে ভ্রমণ করলে যাত্রাটাও একটা অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।” এখনও পর্যন্ত ১৭টি রাজ্য ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন রুদ্র। পাশাপাশি ১১টি জ্যোতির্লিঙ্গ, ১৭টি শক্তিপীঠ, চার ধাম এবং পঞ্চকেদার যাত্রাও সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি শক্তিপীঠ দর্শনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। বহুলা মাতা শক্তিপীঠ দর্শনের মাধ্যমে তাঁর ছয়টি শক্তিপীঠ দর্শন সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: মা দুর্গার মূর্তি টেনে-হিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামানোর চেষ্টা, লোকালে ছানা ব্যবসায়ীদের চরম ‘দাদাগিরি’

এই দীর্ঘ যাত্রায় কোনও নির্দিষ্ট অর্থের সংস্থান না থাকলেও পথে মানুষের ভালবাসা ও সহযোগিতাই তাঁর ভরসা। কখনও কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ চা বা জলখাবার খাওয়াচ্ছেন, আবার প্রয়োজনের সময়ে আর্থিক সাহায্যও করছেন। রুদ্র কুমার প্যাটেল আরও বলেন,“আমি কোনও টাকা নিয়ে এই যাত্রা করছি না। ভগবানের কৃপায় যখন যা প্রয়োজন হয়, কোনও না কোনওভাবে তা মিলে যায়। জগন্নাথপুরী থেকে কোণার্ক যাওয়ার সময় আমার পুরনো স্কেটের টায়ার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখন আমেরিকা প্রবাসী এক দাদা আমার খোঁজ নিয়ে নতুন স্কেট, হেলমেট ও জামাকাপড় কেনার জন্য প্রায় ১৭-১৮ হাজার টাকার সাহায্য করেছিলেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজো থেকে ছট, উৎসবের মরশুমে আমজনতার জন্য উপহার রেলের! এই রূটে টিকিটের চিন্তা শেষ

রাতে কখনও মন্দির, আশ্রম, গুরুদ্বার, পেট্রোল পাম্প বা ধাবায় থাকি। আবার জায়গা না পেলে সঙ্গে থাকা তাঁবু খাটিয়েও রাত কাটাতে হয়।” মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পলিটেকনিক করার পর মাত্র দেড় মাস চাকরি করেছিলেন রুদ্র। পরে চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে দেশের বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে দেখার প্রবল ইচ্ছাতেই শুরু করেন এই দীর্ঘ যাত্রা। তাঁর দাবি, পরিবারকে না জানিয়ে নয়, মা-বাবা ও ছোট বোনের পূর্ণ সমর্থন এবং অনুমতি নিয়েই তিনি বেরিয়েছেন। এখনও প্রায় ১০টি রাজ্য ভ্রমণ বাকি। সব মিলিয়ে যাত্রা শেষ হতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। স্কেটিং করতে করতে এভাবেই ভারতের নানা প্রান্তের সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ভরে এগিয়ে চলেছেন রুদ্র।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *