Last Updated:
প্রথম বার নির্বাচনে লড়েই তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা দখল করে গোটা দেশকে চমকে দিয়েছিল বিজয়ের দল TVK৷
পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কড়গম বা TVK-এর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন হল পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে। রবিবার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন TVK-এর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায়, সঞ্জয় ডি-সহ বিভিন্ন জেলার সংগঠনের সদস্যরা।
দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই কার্যালয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার প্রক্রিয়া শুরু হল। কার্যালয় উদ্বোধনের পর TVK-এর রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায় জানান, আপাতত সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, তামিলনাড়ু থেকে সংগঠনের উচ্চতর নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত রাজ্যে TVK-এর সংগঠন তৈরি হচ্ছে, সেখানে প্রথম পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সামাজিক কাজের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেই নির্দেশ মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও সংগঠন তৈরির কাজ এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে গত প্রায় দু’মাস ধরে TVK-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। থালাপতি বিজয়ের জন্মদিন উপলক্ষেও সমাজসেবামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে জানান চৈতালি রায় ও সঞ্জয় ডি।
তাঁদের বক্তব্য, সম্প্রতি মালদহে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি গণপতি পুজোর দিন হুইলচেয়ারও বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, হাওড়া, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ধীরে ধীরে সংগঠনের শাখা তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।
পশ্চিমবঙ্গে TVK-এর প্রথম কার্যালয়ের জন্য পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরকেই কেন বেছে নেওয়া হল, সেই প্রশ্নের উত্তরে দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁদের বাড়ি বর্ধমানে হওয়ায় এখান থেকেই রাজ্যে সংগঠনের পথচলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ফাগুপুরের এই কার্যালয়ই পশ্চিমবঙ্গে TVK-এর প্রথম দলীয় কার্যালয়। আগামী দিনে জেলা ভিত্তিকভাবে আরও কার্যালয় তৈরি করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এখনই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়াই বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ঘোষণা করেননি TVK-এর রাজ্য কো-অর্ডিনেটর।
চৈতালি রায় জানান, এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর উচ্চতর নেতৃত্বের অনুমতি ও নির্দেশের অপেক্ষা রয়েছে। ফলে আপাতত সংগঠনকে মজবুত করা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন চৈতালি রায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যা রয়েছে। ভবিষ্যতে TVK রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে এটিকে দলের চূড়ান্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
TVK-এর সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে চৈতালী রায় জানান, তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় মাক্কাল ইযাক্কম বা VMI-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করা হয়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গেও প্রথম পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টিভিকে-র সংগঠন কতটা বিস্তার লাভ করে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের পর দলটি রাজনৈতিক পরিসরে কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

