Headlines

East Bardhaman: হাতে স্মার্ট ওয়াচ, ফোনে ফাইভ জি সিম, নিয়ম করে হয় ফোন চার্জ-রিচার্জ! অতি আধুনিক ধাঁচেই হয় বীরহাটার পুজো | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

বর্ধমানের বীরহাটার বড়মা অত্যন্ত জাগ্রত বলে ভক্তদের বিশ্বাস। আগে বাঁকা নদীর ধারে এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। সেখানে কে বা কারা মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার সঠিক ইতিহাস জানা যায় না। বর্তমানে মায়ের স্থায়ী মন্দির রয়েছে। সেখানে নিত্যপুজো হয়।

অতি আধুনিক ধাঁচেই হয় বীরহাটার পুজো
অতি আধুনিক ধাঁচেই হয় বীরহাটার পুজো

বর্ধমান: মাঝেমধ্যেই বেজে ওঠে ফোন। তাই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন বর্ধমানের বীরহাটার বড়মা। নিয়ম করে প্রতি বছর বদলানো হয় সেট। ফোর জি নয়, একেবারে হাই স্পিড ফাইভ জি-র মাইক্রো সিম ব্যবহার করেন মা। তাও আবার প্রি-পেড। হাতে নরমুণ্ডের সঙ্গে রয়েছে ভ্যানিটি ব্যাগ। তাতেই থাকে মায়ের মোবাইল ফোন। প্রতিদিন নিয়ম করে ফোনে চার্জ দেওয়া হয়। মায়ের হাতে রয়েছে স্মার্ট ওয়াচ। তাতে ব্লাড প্রেসার, হার্টবিট, হাঁটাচলা এবং অক্সিজেনের মাত্রা মাপার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে দামি প্রসাধনীও। সব মিলিয়ে দিনে দিনে আধুনিকা হয়ে উঠছেন মা।

মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, মা আগে ব্যবহার করতেন রিয়েলমি-র ফোন। এখন রয়েছে স্যামসাং ও ওয়ানপ্লাসের সেট। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম—সবই রয়েছে তাতে। মোবাইলে রয়েছে ফাইভ জি-র মাইক্রো সিম। প্রি-পেড সংযোগের জন্য প্রতি মাসে রিচার্জ করা হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে মোবাইলে চার্জ দেওয়া হয়। চার্জ দেওয়া হয় মায়ের কবজিতে বাঁধা স্মার্ট ওয়াচেও।

ভক্তদের সব সময় মন্দিরে যাওয়ার সুযোগ হয় না। কাজের প্রয়োজনে অনেককে বাইরে যেতে হয়। সেই সময় মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্যই এক ভক্ত এই ফোন দিয়েছেন। তার আগে অন্য এক ভক্ত দিয়েছিলেন রিয়েলমি-র সেট। সত্যিই কি মা ফোনে কথা বলেন? কখনও কি গভীর রাতে, মন্দির বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেজে ওঠে ফোন? মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুজোর সময় এক ভক্ত মাকে মোবাইল সেটটি দিয়েছেন। সিমও দিয়েছেন ভক্তরাই। রিচার্জও করেন তাঁরা। আমি ফোন ধরি না। শুধু চার্জ না থাকায় ফোনটি যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সেই খেয়াল রাখি। বাকিটা মা ও তাঁর সন্তানদের ব্যাপার।” তিনি জানান, কখনও কখনও পুজোর সময়েও ফোন বেজে ওঠে। তার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। আসলে যাঁরা ফোন করেন, তাঁরা ভাবেন, কথা না-ই বা হল, অন্তত ফোন তো করতে পারলাম!

শুধু স্মার্ট ওয়াচ বা মোবাইল নয়, অনেকে প্রসাধন সামগ্রীও দেন বলে জানিয়েছেন প্রধান পুরোহিত। শীতের সময় অ্যালোভেরা ক্রিম, আমন্ড অয়েল, বডি স্প্রে—এমন নানা সামগ্রী আসে ভক্তদের কাছ থেকে। দেবাশিসবাবু বলেন, “আমরা মায়ের গায়ে ক্রিম লাগিয়ে দিই। অনেকে এসব নিয়ে হাসি-ঠাট্টাও করেছেন। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে কিছু দিলে আমরা সেটা মায়ের কাছে রাখতে বাধ্য।” ভক্তদের দাবি, মায়ের কাছে এসে অনেকেরই মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। সেই কারণেই মন্দিরে এত মানুষের সমাগম। মায়ের হাতে ফোন বা ঘড়ি দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই তাঁদের কাছে। তাঁদের কথায়, মা তো তাঁদের পরিবারেরই একজন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *