Last Updated:
দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন মা ও ছেলে। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হল না তাঁদের। চোরবাগানে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মা-ছেলের। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, শোকস্তব্ধ পরিবার ও স্বজনেরা।
শুভদীপ ঘোষ,আরামবাগ: কলকাতায় পুজো দেখতে গিয়ে চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির মা-ছেলের। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় টগর বেজ (৩৭) এবং সন্দীপ বেজ (১৪) দু-জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাপের বাড়ির লোকজনকে নিয়ে কলকাতার ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন টগর।
একইসঙ্গে ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন আরামবাগের মলয়পুর-১ পঞ্চায়েতের বালিয়া গ্রামের গৃহবধূ পিয়ালি প্রামানিক (২৫)। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁরও। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পিয়ালির ননদ টগর বেজ, ননদের ছেলে সন্দীপ বেজেরও মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পিয়ালির শ্বশুরবাড়ি বালিয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে। স্বামী সনাতন প্রামাণিক কলকাতার সিঁথির মোড়ে সোনার দোকানে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার পিয়ালি তাঁর ৬ বছরের ছেলেকে নিয়ে বালি এলাকায় ননদের ভাড়া বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে স্বামী সনাতন, ছেলে সান প্রামাণিক, ননদ টগর বেজ মিলে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। তারপরই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সনাতনের স্ত্রী পিয়ালি প্রামাণিক। একসঙ্গে মেয়ে, নাতি ও বউমার মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন সনাতনের বৃদ্ধ বাবা-মা নবকুমার প্রামাণিক ও আশা প্রামাণিক। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়রাও পিয়ালির শ্বশুরবাড়িতে ভিড় করেছেন।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কলকাতার বৌবাজার থানা এলাকার নির্দিষ্ট অংশে তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা পুলিশ। ১৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অথবা নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে। ১৮ অক্টোবর জারি করা ৩৯৭/RPT নম্বরের নির্দেশে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার অধীনে এই পদক্ষেপ করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির বেআইনি জমায়েত, লাঠি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহন এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে, এমন কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

