Headlines

Bhagirathi Bridge: কুখ্যাত ‘সুই*সাইড পয়েন্ট’ এবার পদে পদে দেবে ‘মোটিভেশন’, বোঝাবে জীবনের মূল্য! প্রাণহানি রুখতে নয়া টেকনিক প্রশাসনের | administration takes action on Jangipur Bhagirathi Bridge to prevent sui*cide attempts with motivational hoardings | মুর্শিদাবাদ


Last Updated:

Bhagirathi Bridge: জঙ্গিপুর ভাগীরথী ব্রিজে পর পর আত্মহত্যার ঘটনা! কুখ্যাত ‘সুই*সাইড পয়েন্ট’ রুখতে ব্রিজে অনুপ্রেরণামূলক হোর্ডিং বসাল প্রশাসন, পরিকল্পনা লোহার নেটের। মানুষকে বাঁচার নতুন আলো দেখাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন ও জঙ্গিপুর পুরসভা।

প্রাণহানি রুখতে ব্রিজে লাগানো হয়েছে হোর্ডিং
প্রাণহানি রুখতে ব্রিজে লাগানো হয়েছে হোর্ডিং

মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: পরিবার নিয়ে কখনও পাহাড়ে বেড়াতে গেলে হঠাৎই এক বাঁকের শেষে আপনি দেখতে পেয়েছেন ‘লাভ পয়েন্ট’, ‘ভিউ পয়েন্ট’ সহ নানা নামের বিভিন্ন ধরণের সুন্দর ‘পয়েন্ট’। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় রঘুনাথগঞ্জ শহরে ভাগীরথী নদীর ওপর অবস্থিত জঙ্গিপুর ভাগীরথী ব্রিজ গোটা জেলায় ‘কুখ্যাত’ হয়ে উঠেছে ‘সুইসাইড পয়েন্ট’ হিসেবে। এই ব্রিজ থেকে ভাগীরথী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যে বহু ব্যক্তি এই ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েকজনকে সময় মতো উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণ বাঁচানোর সম্ভব হয়নি।

এবার ভাগীরথী নদীর ওপর এই ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা আটকানোর জন্য পদক্ষেপ করল জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এই ব্রিজের ওপর কয়েক মিটার অন্তর একাধিক ছোট হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। যেখানে আত্মহত্যার পথগামী মানুষকে বাঁচার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের ‘অনুপ্রেরণামূলক’ কথা লেখা হয়েছে। এই হোর্ডিংগুলিতে জীবনের মূল্য ,পরিবারের গুরুত্ব এবং সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয়রা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন শুধু হোর্ডিং নয়, আরো সক্রিয় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি দরকার।

আরও পড়ুন: জিরাফ-জেব্রার পর এবার নিউটাউনে মিনি জু’তে আসছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার! কবে থেকে দেখতে পাবেন? সুখবর

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগীরথী নদীর ওপর এই ব্রিজটি রঘুনাথগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর শহরকে যুক্ত করেছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ২০০১ সাল নাগাদ চালু হয়। এই ব্রিজ চালু হওয়ার আগে নদীর দুই পাড়ের মানুষ নৌকা করে এক পার থেকে অন্য পারে যেতেন। তবে ব্রিজ চালু হয়ে গেলেও এখনও নদীতে নৌকা করে পারাপার বন্ধ হয়নি। এখনও প্রচুর মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার না করে রঘুনাথগঞ্জের গাড়ি ঘাট থেকে জঙ্গিপুর ফেরিঘাট মধ্যে নৌকা করে নদী পারাপার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান ব্রিজটি তৈরি হওয়ার পর সাধারণ মানুষের পক্ষে জঙ্গিপুর পুরসভার অন্তর্গত দুই শহরে যাওয়া খুব সুবিধাজনক হয়ে গিয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে হঠাৎ করেই এই ব্রিজটির ‘কুখ্যাত’ হয়ে উঠেছে আত্মহত্যার জন্য। একাধিক পুরুষ এবং মহিলা ইতিমধ্যেই এই ব্রিজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রঘুনাথগঞ্জ শহরের বাসিন্দা রাজা বসু বলেন,” ব্রিজ থেকে নিচে নদীতে ঝাঁপ দিলে সাঁতার না জানলে তাঁকে বাঁচানো এক প্রকার অসম্ভব। তবে কয়েকবার ব্রিজের দু’প্রান্তে ঘাটের কাছে বসে থাকা যুবকরা ব্রিজ থেকে কাউকে ঝাঁপ দিতে দেখে জলে ঝাঁপ দিয়ে বা নৌকা নিয়ে গিয়ে দু -একজনকে বাঁচিয়ে ফেলেছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অনেকেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছেন। পরে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে।”

আরও পড়ুন: দীপাবলি ও ছটপুজোয় বাড়ি ফেরার চিন্তা দূর, উৎসবের আগে বিরাট উপহার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের

কিন্তু কী কারণে জেলার মানুষের কাছে জঙ্গিপুর ভাগীরথী ব্রিজটি ‘সুইসাইড পয়েন্ট’ হিসেবে কুখ্যাত হয়ে উঠছে তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কারোরই কোনও ধারণা নেই। শহরের বাসিন্দা বেলা দে বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলায় আরও একাধিক ব্রিজ রয়েছে। কিন্তু গত দু-তিন বছরে জঙ্গিপুর ভাগীরথী ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে যে সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করেছেন বা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তা আর অন্য কোনো জায়গায় হয়নি। আমরা এই শহরের বাসিন্দারা বুঝতেই পারছি না কী কারনে এই ব্রিজ থেকে এত সংখ্যক মানুষ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন।” জঙ্গিপুর জেলা পুলিশ সূত্রের খবর , গত ২ বছরে এই ব্রিজ থেকে অন্তত ৫০ জন মানুষ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন অব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আত্মহত্যার জন্য। তাঁদের মধ্যে অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অনেককে আবার স্থানীয়দের তৎপরতায় ব্রিজের ওপর রেলিং থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন,”ভাগীরথী নদীর ওপর ওই ব্রিজটি পূর্ত দফতরের এক্তিয়ারভুক্ত। ওই ব্রিজ থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকে একটি যৌথ ভিজিট করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই আমরা পূর্ত দফতরের কাছে প্রস্তাব রেখেছি ব্রিজের রেলিংয়ের ওপর বেশ কয়েক মিটার উঁচু করে লোহার নেট লাগিয়ে দেওয়ার জন্য। তবে ব্রিজের ওপর লোহার নেট বসালে ব্রিজের ওপর ভার কিছুটা বেড়ে যাবে। পূর্ত দপ্তর এখন আমাদের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। পূর্ত দফতর আমাদেরকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিলে ব্রিজের ওপর দিয়ে একটি জলের পাইপলাইন এবং রেলিংয়ের ওপর লোহার নেট বসানোর কাজ আমরা সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দেব। “

(DISCLAIMER:This news piece may be triggering. If you or someone you know needs help, call any of these helplines: Aasra (Mumbai) 022-27546669, Sneha (Chennai) 044-24640050, Sumaitri (Delhi) 011-23389090, Cooj (Goa) 0832- 2252525, Jeevan (Jamshedpur) 065-76453841, Pratheeksha (Kochi) 048-42448830, Maithri (Kochi) 0484-2540530, Roshni (Hyderabad) 040-66202000, Lifeline 033-64643267 (Kolkata))



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *