Headlines

Tarapith: দুর্গাপুজোর মতোই কড়াকড়ি, তারাপীঠের সবথেকে বড় উৎসবে মানতে হবে কোন নিয়ম? জানিয়ে দিল পুলিশ-প্রশাসন | Strict Rules For Tarapith Biggest Festival Police Ban DJs Mandate CCTVs For Nabanna Utsav | বীরভূম


Last Updated:

Tarapith: বীরভূমের তারাপীঠের সবচেয়ে বড় নবান্ন উৎসবে দুর্গাপুজোর মতোই কড়াকড়ি! নিষিদ্ধ ডিজে, মণ্ডপে সিসিটিভি ও রাত ১১টার মধ্যে বিসর্জনের কড়া নির্দেশ প্রশাসনের।

তারা মা
তারা মা

বীরভূম, সৌভিক রায়: মা তারার পবিত্র ধামে দেবীর কোনও নির্দিষ্ট মূর্তির পুজোর প্রচলন নেই। ঋতু ও তিথি অনুযায়ী মা তারাকেই কখনও লক্ষ্মী, কখনও কালী, আবার কখনও বা সরস্বতীরূপে হৃদয়ে ধারণ করে আরাধনা করেন ভক্তরা। আর বীরভূম জেলার তারাপীঠে এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই পালিত হয় এখানকার সবথেকে বড় উৎসব ঐতিহাসিক ‘নবান্ন উৎসব’ বা কার্তিক পুজো। তবে এই মহোৎসব যাতে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।

দুর্গাপুজোর মতোই কড়া নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন উৎসবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হল ডিজে সাউন্ড সিস্টেম। তারাপীঠ চত্বরে প্রথাগত দেব-দেবীর মূর্তিপূজা হয় না বললেই চলে। বছরের বিভিন্ন সময়ে মা তারার বিভিন্ন রূপের কল্পনা করেই এই পবিত্র ভূমিতে উৎসবের জোয়ার আসে। এর মধ্যে তারাপীঠের সবথেকে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হলও এই নবান্ন উৎসব। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি দুর্গাপুজোর থেকেও বড় এক আবেগের জায়গা। আর সেই উৎসবকে কেন্দ্র করেই যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: মহাদেবের বুকে পা নয়, কাচের বোতলের প্রাণ পেলেন অন্য রূপের মাকালী! তাক লাগানো সৃষ্টি বাঁকুড়ার শিল্পীর

তারাপীঠ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নবান্ন উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মূল দায়িত্ব প্রশাসন ও সাধারণ নাগরিক উভয়েরই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই এ বছর দুর্গাপুজোর মতো করে তারাপীঠের নবান্ন উৎসব পালন করতে হবে। পুজো কমিটিগুলির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং শব্দদূষণ এড়াতে পুজোর বিসর্জনের দিন কোনও ভাবেই ডিজে সাউন্ড সিস্টেম বা উচ্চস্বরে বক্স বাজানো যাবে না। তারাপীঠের মধ্যে যে ছ’টি বড় নবান্ন উৎসব অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়, তার প্রতিটি মণ্ডপ ও তার আশেপাশের চত্বরে আবশ্যিকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে।

আরও পড়ুন: পাতালকালী থেকে ঝংকার কালী! গা ছমছমে অলৌকিক কাহিনি, নদিয়ার এই ৫ পুজো না দেখলে ঠাকুর দেখাই বৃথা

পুজো মণ্ডপ ও মন্দিরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রত্যেক কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাতে মণ্ডপের পাশে অন্ততপক্ষে নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ড বা প্রহরীর ব্যবস্থা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে প্রত্যেক পুজো কমিটিকে তাদের নিজস্ব ঠাকুর ভাসান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনও ভাবেই রাত বাড়ানো যাবে না। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া এই নিয়ম বা নির্দেশিকা মেনে চলার ক্ষেত্রে যদি কোনও পুজো কমিটি গাফিলতি দেখায়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার গিয়ে পড়বে সেই কমিটির সদস্যদের উপরেই। তারাপীঠের আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য, পবিত্রতা এবং সাধারণ ভক্তদের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসনের এই নজিরবিহীন কড়াকড়িকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধুসন্ত, প্রবীণ ভক্ত ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে তারাপীঠের ঐতিহ্য যেমন রক্ষা পাবে, তেমনই বহু মানুষের সমাগমেও উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *