Last Updated:
Inspirational Story: ৭৫ বছর বয়সেও তুলির টান, বাঁশির সুর আর তলোয়ার খেলায় তুফান তুলছেন খড়্গপুরের শিবাজী রাও! এই স্বশিক্ষিত শিল্পীর অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনগাঁথা জানুন।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বয়সের ভারে অনেকেই যখন গৃহকোণে অবসরে দিন গুজরান করেন, ঠিক তখনই যেন নতুন উদ্যমে জীবনের ক্যানভাস সাজাচ্ছেন তিনি। ৭৫ বছর বয়সেও দু’হাতে অদ্ভুত প্রাণশক্তি। একাধারে দক্ষ চিত্রশিল্পী, অন্য দিকে সুরসাধক ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষক। অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী শিবাজী রাওয়ের খড়্গপুরের ছোট ট্যাংরার বাড়িতে পা রাখলেই চোখে পড়ে জীবনের এক আশ্চর্য গতি। জলরং, তেলরং কিংবা মিক্সড মিডিয়া— তাঁর তুলির প্রতিটি আঁচড়ে প্রাণ পায় বাস্তবতা। অথচ এই দক্ষতার পিছনে নেই কোনও নামী আর্ট কলেজের ডিগ্রি। নিজের নিখাদ ভালবাসা আর অদম্য ইচ্ছেতেই তিনি আজ স্বশিক্ষিত শিল্পী।
রেল শহরের আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা শিবাজীবাবুর শৈশব খুব একটা সচ্ছল ছিল না। বাবার মতোই কর্মজীবনে রেলেই যোগ দেন তিনি। আঁকা শেখার সুযোগ অধরা থেকে গেলেও চোখ ছিল খোলা। মৃৎশিল্পীদের মূর্তি গড়া কিংবা শহরের প্রবীণ শিল্পীদের কাজ দেখে দেখেই রক্তে মিশেছিল রেখার ভাষা। কর্মজীবনের ব্যস্ততার ফাঁকেও তুলি হাতছাড়া হয়নি। অবসর নেওয়ার পর বিগত দেড় দশকে সেই নেশাই হয়ে উঠেছে জীবনের মূল সুর। ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক জীবন্ত প্রতিকৃতি ও ল্যান্ডস্কেপ। তাঁর এই রঙের ভুবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও নিত্যসঙ্গী তাঁর সহধর্মিণী পুষ্পা দেবী, যাঁর সহযোগিতায় প্রতিটি ছবি হয়ে ওঠে জীবনমুখী।
তবে শুধু রঙেই আটকে নেই তাঁর প্রতিভার বিস্তার। অবসরের দিনগুলোতে কখনও তাঁর আঙুল খেলে যায় কি-বোর্ডে, কখনও আবার নিস্তব্ধ দুপুরে বাঁশির সুরে ভেসে যায় সুরের জাদু। মহারাষ্ট্রের শিকড় হলেও খড়্গপুরের মাটিতে বেড়ে ওঠায় শিবাজীবাবুর মুখে অনর্গল মিষ্টি বাংলা। শুধু শিল্পচর্চাতেই সীমাবদ্ধ নন, এই বয়সেও তিনি সমান চটপটে। নিয়মিত লাঠি খেলা, তলোয়ার ঘোরানো এবং শরীরচর্চার পাশাপাশি এলাকার ছেলেমেয়েদের শেখান আত্মরক্ষার পাঠ। তাঁর নিপুণ লাঠি ঘোরানো দেখলে বোঝার উপায় নেই যে তিনি জীবনের সাতটি দশক পেরিয়ে এসেছেন।
