Headlines

Waterman Iqbal: কে করবে ভিডিও? মুর্শিদাবাদের ‘জলমানব’ ইকবালকে নিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় চরম দড়ি টানাটানি, ঘটনা গড়াল থানা-পুলিশ পর্যন্ত! Conflict over who will make video of murshidabad waterman Iqbal took drastic turn in social media | মুর্শিদাবাদ


কীসের বিতর্ক?

ইকবালের শারীরিক অসুস্থতা ও অর্থনৈতিক অবস্থার কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়ান রিলায়েন্স গোষ্ঠীর অনন্ত আম্বানি৷ তাঁর উদ্যোগেই মুম্বইয়ে ইকবালের ৩৫ দিন ধরে চিকিৎসা চলে৷ তাতে সুস্থ হয়ে ওঠেন অনেকটা। জানা যাচ্ছে, ইকবালের অসুস্থতার সময় থেকেই তাঁর ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন স্থানীয় যুবক পেশায় তথা পরিযায়ী শ্রমিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুবেল শেখ ওরফে রাহুল। ইকবালের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ভিডিও পোস্ট করার সময়ে কামিরন বিবি বা তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের QR কোড দিয়ে থাকেন রুবেল এমনটাই জানা যাচ্ছে। এরপর সম্প্রতি ইকবালকে নিয়ে কনটেন্ট বা ভিডিও তৈরি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরেরা৷ আর এ নিয়েই পরিবারের সঙ্গে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিবাদ শুরু হয়। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের একাংশের দাবি, রাহুলের পরামর্শেই কামিরন বিবি অন্য কাউকেই ইকবালের ভিডিও করতে অনুমতি দেন না।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি…ওজন কোথায় পৌঁছেছে জানেন! ‘জল মানব’ ইকবালের অবস্থা জানালেন মা কামিরন বিবি

স্থানীয় যুবক মুস্তাক এবং ইয়াসুদ, ইকবালের বাড়িতে গিয়ে ভিডিও তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাঁদের কিছু ব্যবহার ও কথাবার্তা তাঁদের ভাল লাগেনি। তবে ভিডিও করতে তিনি বাধা দেননি বলেই জানান ইকবালের মা। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলডাঙা থানায় মুস্তাক ও ইয়াসুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কামিরন বিবির দাবি, পরে ওই দু’জন বাড়িতে এসে ক্ষমা চেয়ে নেন। ভবিষ্যতে আর ভিডিও করবেন না বলেও জানান। তাঁদের আচরণের জন্য অনুতাপ প্রকাশের চার দিন পরে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে।

কে এই রুবেল?

পরিবারের দাবি, ইকবালের পাশে প্রথম থেকেই ছিলেন ইসলামপুরের যুবক রুবেল সেখ। পেশায় তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। মাঝেমধ্যেই ইকবালের বাড়িতে এসে সময় কাটান এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে কাজের সূত্রে গত দু’দিন আগে তিনি ভিনরাজ্যে রওনা দিয়েছেন। সেখান থেকেও ফোনে ইকবাল ও তাঁর মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন রুবেল।

রুবেল জানিয়েছেন, ইকবালকে নিয়ে যে কেউ ভিডিও তৈরি করতে পারেন, তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে ইকবালকে নিয়ে মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরি করা হলে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। বর্তমানে ইকবালের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন, সেই কারণে সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে সাড়া দিয়েছেন। রুবেলের বক্তব্য, যাঁরা ইকবালকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে চান, তাঁরা কামিরন বিবির সঙ্গে কথা বলে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে পারেন। এতে ইকবালের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হতে পারে।

পেশায় ময়রা মুস্তাক নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ‘মুস্তাক ব্লগার’ নামে পরিচালনা করেন। বেলডাঙার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। ইকবালকে নিয়ে ভিডিও করতে গিয়েই কামিরন বিবির সঙ্গে তাঁর বিতর্ক তৈরি হয়। তবে মুস্তাকের দাবি, একটি ভিডিও করতে গিয়েই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি আর ইকবালকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করেননি। থানায় অভিযোগের প্রসঙ্গে মুস্তাক জানান, তাঁদের মধ্যে ঝামেলা মিটে গিয়েছে। এই বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চান না।

ভিডিও বানানো নিয়ে পরিবারের ঠিক কী মত?

ইকবালকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের কাছে ইকবালের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করাই প্রধান লক্ষ্য। তাই ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে পরিবারের অনুমতি ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উঠে আসছে। পরিবার জানিয়েছে, ইকবালকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করা যাবে, তবে সেই ভিডিও যেন তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন ও সাহায্যের আবেদনকে সামনে রাখে তৈরি হয়।

প্রসঙ্গত, মুম্বই থেকে চিকিৎসা করে আসার পরে বর্তমানে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা চলছে মুর্শিদাবাদের ‘ওয়াটার ম্যান’ ইকবালের। প্রতি বৃহস্পতিবার বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য যেতে হয়। ইকবালের মা কামিরন বিবি জানিয়েছেন, “ছোট থেকেই ইকবালের শরীরে জ্বালাপোড়া হত। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেটা অনেক বেড়ে যায়। দিনভর জলের তলায় ডুবে বসে থাকত, সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ে। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে সেপ্টেম্বরে নিজের বাড়িতে ফেরে ইকবাল।’

চিকিৎসক তুহীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, “ইঞ্জেকশনে ইকবালের প্রবল অনীহা। যেহেতু ভয় পায়, তাই অনেক বুঝিয়ে ইঞ্জেকশন দিতে হয়।” চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ইকবালের জন্য আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা মুম্বইয়ের রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলি। ওজন কমানো, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত খিদে কমানোর জন্য ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ইকবালের গ্রেড ৩ ওবিসিটি, অ্যাটোপিক ডার্টামাটিক্স ছাড়াও সোরিয়াসিস-সহ বেশ কিছু রোগের উপস্বর্গ রয়েছে। মুম্বইয়ে ওই রোগের চিকিৎসা চলছে। কাউন্সেলিং করার সময়ে ইকবাল তার অসুস্থতা নিয়ে প্যানিক করে এবং কিছুটা হলেও সাইকোলজিক্যাল সমস্যাও রয়েছে। তবে মুম্বইয়ের চিকিৎসকরা আশাবাদী যে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে ইকবাল।

তথ্যঃ কৌশিক অধিকারী 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *