Last Updated:
Money Making Tips: সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মালদার ইংরেজবাজার ও মানিকচকের বহু পরিবার তাঁত পেশা ছেড়ে ঝুঁকছে লাভজনক কার্পেট শিল্পে। ভাদোহী থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে উল, রেশম ও পাটের সুতোয় দেশ-বিদেশের বাজারে সমাদৃত তিব্বতি কার্পেট তৈরি করে তাক লাগাচ্ছেন জেলার হাজার হাজার কারিগর।
মালদা, জিএম মোমিন: একসময় বাড়ি বাড়ি তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত মালদার বিভিন্ন গ্রাম। গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি তৈরিতেই জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু পরিবার। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চাহিদা, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁত ছেড়ে কার্পেট শিল্পে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন বহু মানুষ। ইংরেজবাজার ব্লকের সাতটারি, অমৃতি এবং মানিকচক ব্লকের ধরমপুর, পুরানিগ্রাম, এনায়েতপুর-সহ বিভিন্ন গ্রামে এখন বাড়িতেই ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে।
একসময় রোজগারের তাগিদে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহীতে কাজ করতে যেতেন এখানকার শ্রমিকরা। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিরে এসে নিজেরাই তৈরি করছেন নকশাদার তিব্বতি কার্পেট। উল, রেশম ও পাটের সুতো দিয়ে তৈরি এই সামগ্রী দেশ-বিদেশে সমাদৃত। কার্পেট শিল্পী তৌহিদুর রহমান জানান, প্রায় ২০ বছর আগে অধিকাংশ বাড়িতে তাঁতের কাজ হত। বর্তমানে সেই চাহিদা কমায় বিকল্প পেশা হিসেবে কার্পেট তৈরিতে যুক্ত হয়েছেন তাঁরা। নকশা অনুযায়ী প্রতি মিটারে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক মেলে। একটি লুমে এক থেকে তিনজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন।
শিল্পীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে মালদা সদর মেগা কার্পেট তন্তুবায় সমিতি। সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহঃ মহসিন মিঞা জানান, জেলায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। সরকারি উদ্যোগে দুটি কারখানাও তৈরি হয়েছে। মালদায় কার্পেট বোনা হলেও পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণ ও বাণিজ্যিকরণের জন্য তা ভাদোহীতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিদেশের বাজারে পৌঁছয় এই শিল্পসামগ্রী। নকশা ও মান অনুযায়ী এক একটি কার্পেটের দাম ১ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দক্ষতা ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পান শিল্পীরা।
