Last Updated:
জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ তার পরেও টোটো চালকরা সেই নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ৷
টোটোর বাড়বাড়ন্তে যানজটে নাকাল বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা। যান চলাচলের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার উদ্যোগী হলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। ইতিমধ্যেই তিনি জেলা পুলিশের সঙ্গে এ ব্যাপারে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্ধমান শহরে টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট চার্ট তৈরি করার কাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়ি তা সম্পূর্ণ হবে। এর ফলে যানজট অনেকটা কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
বর্ধমান শহরে এখন বেশ কয়েক হাজার টোটো চলাচল করছে। এছাড়াও আশপাশের পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রতিদিন বেশ কয়েকশো টোটো শহরে আসছে। বর্ধমান রেল স্টেশন, খোসবাগান, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তেলিপুকুর, কার্জন গেট সহ যে এলাকা যত বেশি জনবহুল সেখানেই তত বেশি টোটোর ভিড়। সে কারণে তৈরি হচ্ছে চরম যানজট। তাতে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের।
তাঁরা বলছেন, অবিলম্বে টোটো চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করুক পুলিশ প্রশাসন। এর আগেও এই শহরে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। দিনের প্রথম অর্ধে নীল সাদা ও দ্বিতীয় অর্ধে সবুজ সাদা টোটো চালা চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই মতো টোটোগুলিকে আলাদা আলাদা রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়। কিন্তু সেই নিয়ম ফলপ্রসূ হয়নি। শুধু তাই নয়, টোটো চালকদের অসহযোগিতার কারণেই রুট তৈরির পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আগে টোটো জি টি রোডে উঠতে পারত না। এখন বেশিরভাগ টোটোই বিনা বাধায় জি টি রোড ধরে যাত্রী নিয়ে ছুটছে। তাতে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প ও পরিকল্পনা দফতরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ ও কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে টোটোর রুট চার্ট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে। সেই তালিকা ধরে টোটো চলাচল শুরু হলে যানজট সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

